বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে জাতীয় গোয়েন্দা নিরপত্তা সংস্থায় যোগদান

0

 

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) ২৮ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে র‌্যাব হতে জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তা সংস্থায় যোগদান করেছেন। তিনি  ০৭ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখ হতে র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে মেজর পদে প্রেষণে বদলি হয়ে প্রথমে র‌্যাব-২, আগারগাঁও এর উপ-অধিনায়ক হিসেবে ০৫ মার্চ ২০০৯ তারিখে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২৭ আগষ্ট ২০০৯ সালে তিনি পরিচালক, ইন্টেলিজেন্স উইং হিসেবে র‌্যাব সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক অফিসার হিসেবে কমিশন্ড লাভ করেন এবং দেশের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণসহ মালয়েশিয়া,যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক ব্যাটালিয়নের কোম্পানী কমান্ডার, প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের কোম্পানী কমান্ডার এবং পদাতিক ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়জিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্কুল অব ইনফেন্ট্রি এন্ড ট্যাকটিকস, জালালাবাদ সেনানিবাসের স্পেশাল ওয়ারফেয়ার উইং এর প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদানসহ বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, সিয়েরালিওন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা,  ইংল্যান্ড এবং চীনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো এবং স্কাই ডাইভার। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক ও সুখী দাম্পত্য জীবনের অধিকারী।

 

অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ, ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত তিনি র‌্যাবে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সাহসিকতাপূর্ণ ও প্রত্যুৎপণ্যমতি নেতৃত্বের  মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মাথাচারা দিয়ে উঠা বিভিন্ন চরমপন্থী, বনদস্যু, জলদস্যু ও সন্ত্রাসী সংগঠনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমনের মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলের অপামর জনগণের মাঝে স্বস্তি এসেছে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে জেএমবি, হুজিবি, আনসারুল্লাহসহ অন্যান্য জঙ্গী সংগঠন সমূহের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনতে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের সার্বিক আইন শৃংখলা রক্ষায় তাৎপর্যপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। সারাবিশ্ব আলোড়ন সৃষ্টিকারী অপরাধী সাভারের রানা প্লাজার মালিক রানা, বাংলাদেশের অন্যতম মাদক সম্রাট আমিনহুদা সহ দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত ভয়ংকর অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের এই

চৌকষ কর্মকর্তার অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যময়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত র‌্যাবের সাফল্যকে আকাশচুম্বী করেছে যার নেতৃত্ব তিনি হলেন কর্নেল জিয়াউল আহসান। কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকের চুরি যাওয়া ১৬ কোটি টাকা উদ্ধার, বিভিন্ন হাসপাতালে নবজাতক চুরী ও কেনা-বেচা রোধ, ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ এর ফলে অর্জিত সাফল্য মূলতঃ তার গৃহীত দুরদর্শী সিদ্ধান্তেরই ফল। ভয়ঙ্কর অপরাধীদের সনাক্ত করন ও স্থায়ীভাবে তাদের তালিকা সংরক্ষন ও হালনাগাদ করনে জঅই এ ঈৎরসরহধষ উধঃধ ইধংব এবং কারাগারের অবস্থানকারী অপরাধীদের তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য র‌্যাব-প্রিজন ইনমেট ডাটাবেজ এর প্রচলন এবং জঙ্গী দমনের লক্ষ্যে র‌্যাবে ‘‘জঙ্গী সেল’’ নামক বিশেষ সেল গঠন কেবল তার পরামর্শ ও নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। র‌্যাবের আভিযানিক কর্মতৎপরতাকে অধিকতর ফলপ্রসূ করতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য স্যাটালাইট ফোন, দ্রুতগামী জলজান, হেলিকপ্টার সংযোগের মাধ্যমে র‌্যাবকে একটি বিশ্বমানের চৌকষ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করতে তার অবদান দেশের মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। র‌্যাবে কর্মরত সময়ে বিভিন্ন সাহসিকতা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুইবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক এবং দুইবার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক লাভ করেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)