বিলুপ্তপ্রায় কালিজিরা ধান চাষে উৎসাহী বাউফলের কৃষকেরা

2

pic-4 copy

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : গ্রাম-গঞ্জ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কালিজিরা জাতের ধান । তবে সুখের বিষয়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সম্প্রতি কিছু কৃষক বিচ্ছিন্নভাবে বিলুপ্তপ্রায় এই কালিজিরা ধান চাষে উৎসাহী হয়েছেন।

উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন শুধু সোনা ধানের সমারোহ। তবে মাঠের মাঝখানে দোল খাচ্ছে কালিজিরা ধানের থোকা থোকা কৃষ্ণবর্ণ শীষ। সারা মাঠের মধ্যে একখন্ড এই কালো রঙের ধানক্ষেত দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন কোন চিত্রশিল্পীর নিপুণ হাতের ছবি।

কালিজিরা ধানের সুগন্ধি চালের নাম শুনলে জ্বিবে কার জল না আসে? কারণ সুগন্ধি সরু ও চিকন চাল দিয়ে তৈরি করা হয় পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির-পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরও সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার। কিন্তু এসবই এখন কালের স্মৃতি। কেননা রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে আজকাল কালিজিরা ধানের আবাদ যেন চোখেই পড়ে না। এ অঞ্চলে কালিজিরা ধানের চাষ করার জন্য কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বীজের অভাবে অনেকের পক্ষে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের চরকান্দা এলাকার কৃষক আবদুল মোখলেচ আকনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, একই এলাকার এক কৃষকের কাছ থেকে কালিজিরা ধানের বীজ সংগ্রহ করে এবার ১০ কাঠা জমিতে চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান উৎপন্ন হবে বলে জানান তিনি । অন্য জাতের ধানের চেয়ে কালিজিরার ফলন অপেক্ষাকৃত কম হলেও এর দাম অনেক বেশি। গৃহস্থ পরিবারের কাছে এ ধানের কদর যথেষ্ট। এখানে প্রতি কেজি কালিজিরা ধানের চাল বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে এ চাল সচরাচর সবখানে পাওয়া যায় না। মোখলেচ আকন আরও বলেন, ১০ কাঠা জমিতে ধান চাষ করতে তার খরচ হয়েছে হাজার পাঁচেক টাকা।

উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক নিতাই হাওলাদার এ প্রতিনিধিকে জানান, কালিজিরা ধান আগে বরিশালের বিস্তির্ণ অঞ্চলজুড়ে আবাদ হতো। কিন্তু একদিকে আধুনিক জাতের দাপট অন্যদিকে এসব ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় কৃষকরা বীজ সংরক্ষন বা সংগ্রহ করা অনেক অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের জনপ্রিয় কালিজিরা ছাড়াও নানা জাতের দেশী ধান।

বাউফল উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. সরোয়ার জামান বলেন, হারিয়ে যাওয়া এই সুগন্ধি ধানের চাষ উপজেলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে হচ্ছে। এটা আমি সরজমিনে বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখেছি। এ ব্যাপারে কৃষদের সার্বিক উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।