বিশ্বশ্বর পাল মৃৎশিল্পের আজীবন সম্মাননা পদক পেলেন

4

জাহাঙ্গীর হোসেনঃ পটুয়াখালী বাউফল কাগজীপুলের বিশ্বশ্বর পাল মৃৎশিল্পের জীবন সম্মাননা পদক পেয়েছেন । ঐতিহ্যবাহী থেকে আধুনিক ধারার মৃৎশিল্পে তার অর্ধশত বছরের পেশাগত চর্চায় এবং শিল্পের পথ প্রদর্শক অন্যান্য অবদানের জন্যে তাকে   শিক্ষা বলহরি সাহা স্মৃতি আজীবন সম্মাননা পদক-২০১৬  জন্যে নির্বাচিত করেছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় সহযোগিতায় বরিশাল মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা পরিষদ অশ্বিনী কুমার হলে জাক-জমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য সম্মাননা সনদ , ক্রেস্ট এবং মানি প্রাইজবন্ড প্রদান করেন।

সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত বিশে^শ^র পাল তার মৃৎশিল্পের সাফল্য তুলে ধরে বলেন ১৯৮১ সালে তার নেতৃত্বে বাউফলের পালরা ঢাকায় বাংলা একাডেমীতে মেলায় অংশগ্রহন ও সম্মাননা ১৯৭৬ সালে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত কৃষি ও শিল্প প্রদর্শনীেেত সম্মাননা, ১৯৯৩ সালে যুব উন্নয়ন কতৃক সেরা মৃৎশিল্পী সম্মাননা, ১৪২০ সালে বিসিক বৈশাখী মেলায় সেরা স্টলের পুরুস্কার, ১৪২১ সালে বিসিক কতৃক কারু শিল্পী পুরুস্কার অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে কারিতাসের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কোর দি জুট ওয়ার্কস এর মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক বাজারে ব্যাপক হারে বাউফলের মদনুারা পণ্য সরবরাহ শুরু হয়। ওইসব উদ্যোগের সাথে তিনি প্রধান ভ’মিকা পালন করেছিলেন।

বিশে^শ^র পাল পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মদনপুরা গ্রামে ১৯৫২ সালের ৩ জানুয়ারী জম্মগ্রহন করেন। তার পিতা অর্চুতানন্দন পাল ও মাতা সৌধামনি রানী পাল। বিশে^শ^র পাল তার ২ ছেলে। তরুন পাল ঢাকা হ্যান্ডি ক্রাফটসে উচ্চ পদে ও শিশির পাল পিতার পালকে অনুসরন করেছেন। যেন তার পরিবার মৃৎশিল্পের ঐতিহ্যবাহী ধারার সাথে আজীবন যুক্ত রয়েছেন। মৃৎশিল্পে বিশে^শে^র বাবুর হাতে খড়ি বংশ পরস্পরায়। প্রথমে বাবা ও মা ও পরে মদনপুরা পাল পাড়া এলাকায় জুড়ে এই মৃৎশিল্পীরাই ছিল তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু।

তিনি শুধু  ঐতিহ্যবাহী ধারার একজন শিল্পী নন। এই ধারার পাশাপাশি তিনি উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে এর উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন। একই সাথে ্এর বাজারজাত করনে নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সর্বত্র দৌড়ে বেড়িয়েছেন। মূলত: বিশে^শ^র পাল ও তার বড় ভাই রাজ্জিশ^র পালের হাতে ধরেই মদনপুরাই মৃৎশিল্পের আধুনিকতা সূত্রপাত হয়। তার হাতে খড়ি নিয়ে তিন শতািেধক বেকার যুবক আতœকর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

মৃৎশিল্পের ইতিহান সর্ম্পকে তিনি বলেণ, কুমারপাড়ায় সারা বছর যারা মাটির তৈজসপত্র বানান তারা পাল হিসেবে পরিচিতি। ১৯৬৯ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তি চেষ্টায় এই শিল্পের পণ্য উৎপাদনে ও বাজারজাত করণ শুরু হয়। স্বাধীনতার পরে অশি^নী কুমার হলের সামনে বড় ভাই রাজ্যেম্বর পালের মদনপুরা পাল পাড়ারা সৌখিন মৃৎসামগ্রী বিক্রি প্রচেষ্টায় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলে অনেকেই এর প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ে। চারুকলার আর্টিস্ট মো: শাজাহান ঢাকায় নিয়ে গিয়ে এর শিল্পীদের উন্নত  মৃৎ শিল্পের যুক্তি কলাকৌশল তুলে ধরেন। এরপর  মদনপুরা পাল থেকে কারিকা নামের একপি প্রতিষ্ঠানে মৃৎসামগ্রী পণ্য সরবরাহের সূচনা হয়। সে সময়ে এ সময়ে এসব পন্য কারিকার মাধ্যমে বিদেশে যেতো।

বর্তমানে বিশে^শ^র পাল যে সমস্ত পন্য তৈরি করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, টি সেট, ডিনার সেট, ফুলদানি, পেন হোল্ডার, আগরদানি, ওয়ালম্যাট, ফ্লাওয়ার ভাস, সহ বহু উন্নতমানের সামগ্রী।এগুলো উপজেলার পাশাপশি ঢাকাসহ বিদেশে যাচ্ছে। বাউফলের মদনপুরা  বিলবিলাস,  বগা অঞ্চলে  মাটির সৌখিন  মৃৎপাত্রের  ব্যাপক পরিমান উৎপাদন হয়।  এখানে উৎপাদিত  মাটির থালা  বাসন, চায়ের  কাপ বাটি,  দইয়ের পাত্রসহ সৌখিন পাত্র কয়েক হাত ঘুরে বিেেদশ রপ্তানি হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে পটুয়াখালী জেলার বাউফলে দর্শনীয় স্থান হচ্ছে কাগজীর পুলের পূর্বপাশে গড়ে ওঠা পালপাড়া। এ পাড়ায়  মাটির নানা পন্য রয়েছে। দেশ বিদেশ থেকে ঘুরতে আসা দর্শীনার্থীরা এ এখানে ঘুরে যান। সম্প্রতি পটুুয়াখালী কোস্টগার্ডের একেএম জাকারিয়া কমান্ডার অফিসার অধ্যাপক নিসার হোসেন  চারুকলা অনুষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মো: লুৎফর রহমান  উপ-নিবন্ধন বিভাগীয় সমবায় দপ্তর সহ বিভিন্ন এনজিও ডোনার পরিদর্শন করেন ।

বিশে^শ^র পাল স্বপ্ন হচ্ছে, মদনপুরা পাল পাড়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র করার, স্বল্প সুদে লোন দিয়ে মৃৎশিল্পীদের জীবনমান উন্নত করা। নিপুণ এই কারিগরদের নেই তেমন কোনো সম্মান স্বীকৃতি। পিছিয়ে থাকা আমাদের  মৃৎশিল্পীদের যে আজ সম্মাননা দেয়া হয়েছে তা আগামী দিনে এ নিপুন কাজে পালদের উৎসাহ ও প্রেরনা যোগাবে।