বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস  (ছবিসহ শেষের পাতায়) সুমন জানেনা শিশুশ্রম কি?

3

 

জাহাঙ্গীর হোসেনঃ ছেলেটির নাম সুমন হাওলাদার। বয়স বড়োজর নয় হবে। মাথায় সাদামাটা কাটিং এলোমেলো চুল, ঘিয়া হাফ হাতার গেঞ্জি পরোনে নীল ট্রাউজার। খালী পায় থাকে সারাক্ষন। কাজ করেন স্ব-মিলে। সকাল ৭টা থেকে কাজ শুরু হয় সুমনের। চার ভাই এক বোন নিয়ে শহরের চড়পাড়া বস্তিতে বসবাস সুমনের। মা সুধে টাকা এনে ছোট ভাইকে একটি ভ্যান কিনে দিয়েছে। ২য় শ্রেনীর পড়ে আর পড়া হয়নি স্কুলে সুমনের।  সেই থেকে দিন দিন বাড়তে থাকে ঋণের বোঝা। এমন অবস্থায় ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস পালিত হবে সুমনের। সরকারী- বেসরকারী পর্যায়ে নানা কর্মসূচীতে পালিত হবে দিবসটি। ‘উৎপাদন  থেকে পণ্যভোগ, শিশুশ্রম বন্ধ  হোক’ এ প্রতিবাদ্যকে সামনে নিয়ে এবার দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে।

সুমন জানান, গলাচিপার চিকনিকান্দি গ্রামে তাদের বাড়ি। বাবার নাম আলতাফ হাওলাদার। সে পেশায় একজন ঘাট শ্রমিক। সংসারে সাতজন সদস্য। এর মধ্যে সুমন বড়ো। বাবা আলতাফের আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো দায়। এ কারনে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের আধাপেট কিংবা অভূক্ত দিন কাটাতে হতো। সংসারের অভাব মেটাতে বাবা আলতাফ ৯ বছরের শিশু সন্তানকে স্কুলের পরির্বতে কাজে পাঠায়। শুরুতে সুমনকে প্রতিদিন ৪০ টাকা বেতন দেয়া হতো। করাত, হাতুড়ি, বাশ আর ভাড়ি গাছ উঠাতে কাজ করতে গিয়ে বহুবার আহত হয়েছে শিশু সুমন। কাজ শিখে দুই বছরে সুমন নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে। তাই আয়ও বেড়েছে।

এভাবেই দারিদ্রতার কারণে প্রতিনিয়ত শিশুরা শিক্ষা বিমুখ হয়ে শ্রমে জড়িয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ১শ’র অধীক স্ব-মিল রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানে দুইজন করে শিশু শ্রমিক কাজ করে। এর ফলে পটুয়াখালীতে শুধু স্ব-মিলে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা আছে প্রায় ২শ।  এছাড়াও মটরসাইকেল ,ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজ, ইটভাটা, বিড়ি শ্রমিক, রিকসার ড্রাইভিং, ওয়েলডিং কারখানা, হিউমান হলারের ড্রাইভিং ইমারত শ্রমিকের মত নানা ঝূঁকিপূর্ণ পেশায় শহুরে জীবনে শিশু শ্রমিকরা জড়িয়ে আছে। শ্রমের বাজারে শিশুরা শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই।

ঝূকিপূর্ণ এসব পেশায় নিয়েজিত শিশুরা বলছেন, ‘পরিবারের অভাব অনটন আর পেটের দায়ের বাধ্য হয়ে এসব ঝুকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন তারা।’  কুয়াকাটা এলাকার সাগড় পাড়ের জেলে সোবাহান ফকির বলেন, ‘আমাগো তো উপায় নাই। মাছ তো সব সময় পাওন যায় না। এ লই¹া পরিবারের খরচ মিডাইতে গুরা গারা লইয়া মাছ ধরি। আমি সাগরে যাই আর ওরা চড়ে রেনু পোণা ধরে।’

খোঁজ নিয়ে জানা  গেছে, এসব প্রান্তিক আয়ের পরিবার গুলোর শিশুদের ভবিষ্যৎ মানে কালো অন্ধকার। স্কুল, বই-খাতা কিংবা বিনোদনের জন্য খেলার মাঠে দৌড়ঝাপ এসব শ্রমজীবি শিশুদের জীবনে অনুপস্থিত প্রায়। অধিকার নিয়ে বেড়ে ওঠা তাদের জন্য বিলাসিতা। তাই জীবনের তাগিদে জীবিকার সন্ধানে ঝূঁকছে ঝূঁকিপূর্ণ পেশায়।

তবে শহরের নব্য সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব মুঈন সারোয়ার বলেন, ‘দিনে এসব শিশুরা কাজ করলেও রাতে যেন অন্তত প্রাথমিক শিক্ষা টা নিতে পারে সে বিষয়ে সরকারের একটু ভেবে দেখা উচিত।’

আব্দুল করিম মৃধা কলেজের সমাজ কল্যান বিভাগের অধ্যাপক মো: সিদ্দিকুল্লাহ্ বলেন, যেখানেই শিশুরা ঝুকিপূর্ন কাজে নিয়োজিত  সেখানেই সরকারের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের হানা দেয়া উচিত। শিশুদের উদ্ধার করে স্কুলে পাঠানো জরুরী। শিশুশ্রম বন্ধে সরকারের পাশাপাশি সামাজিকভাবে বিশেষ নজর দেয়া উচিত।