বেতাগী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত অধ্যক্ষ ও সভাপতিকে লিগ্যাল নোটিশ

5

2

 

জয়দেব রায়, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার বেতাগী গালর্স স্কুল এন্ড কলেজে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে যুক্তিবিদ্যা প্রভাষক পদে গোপনে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত হয়েছে। গত বৃহস্পতি বার অধ্যক্ষ ও সভাপতিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ইতোপূর্বে প্রভাষক, শিক্ষক ও করনিক নিয়োগে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে ডোনেশনের নামে ২১ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ নম্বেভর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব এবং গভর্নিং বডি ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি কে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

জানাগেছে, গত ১০জুন’২০১৫ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবানের প্রেক্ষিতে বরগুনার সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের মো.মন্নানের মেয়ে ইমরানা পারভীন ওই পদের প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহন ও অবহিত না করে পুন:রায় একই পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্ত বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বের আবেদন কারীর পুন:রায় আবেদন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিংবা নেই এ মর্মে কোন বক্তব্য নেই। তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন ঝালকাঠীর কাঠালিয়া উপজেলার তালগাছিয়া গ্রামের শাহআলম হাওলাদারের মেয়ে সাইদা খাতুনের নিকট থেকে ৭ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে গত ২০ নম্বেভর নিয়োগ পরীক্ষা আহবান করে গোপনে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছিল। নিয়োগ বৈধ করতে তার অনুকূলে ডেমি প্রার্থী হিসেবে রুপালী ব্যাংক বেতাগী শাখা থেকে একই সিরিয়ালে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আরো দুই জনের আবেদন দাখিল করে যা তিনি একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছেন। এ দিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ১১ নম্বেরের পরিপত্র অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করার পরেও তা উপেক্ষা পূর্বক অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে প্রতারনা করে তাদের আর্থিক,সামাজিক,ব্যক্তিগত অপূরনীয় ক্ষতি সাধন এবং সম্পূর্ন বে-আইনীভাবে কাজ করছেন। ভুক্তভোগির পক্ষে বরগুনা জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট মে. মোবারক আলী স্বাক্ষরিত নোটিশে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ না করা হলে প্রতিকার পেতে নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়াও ১৮ সেপ্টেম্বর‘২০১৫ প্রতিষ্ঠানের ৪টি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষ একই দিনে ৪ জনকে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে সুপারিশকৃত ৩ জনের মধ্যে বিদ্যালয় শাখার বিএসসি বিজ্ঞান প্রার্থী পপি আক্তার ও অফিস সহকারি মোসা:তানজিলা আকতারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ১০ লাখ,ধর্মীয় শিক্ষক পদে মোঃ কামরুজ্জামানের নিকট থেকে ৭ লাখ এবং কলেজ শাখায় কৃষি বিষয়ের প্রভাষক মোসা: কানিজ সাবরিনা এর নিকট থেকে ৪ লাখ সব মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল আমিন নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বেই ওই টাকা নিয়েছেন নাম প্রকাশে অনেচ্ছেুক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী একাধিক প্রার্থী ও গভর্নিং বডির সদস্য জানিয়েছেন।

ওই নিয়োগ পরীক্ষায় বিজ্ঞান শিক্ষক পদে প্রার্থী স্বপন কুমার ঢালী সহ একাধিক ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,অধ্যক্ষ মহোদয়   কলেজের প্যাডে তার নিজ হস্তে লেখা প্রশ্নপত্র আগের দিন তার পছন্দের লোকদের মাঝে সরবরাহ করায় বিজ্ঞানসহ অন্যান্য পদ সমুহের পরীক্ষায় দক্ষ ও মেধাবীরা অংশগ্রহন করেনি।একই কারনে ১ জন প্রভাষক ২ জন শিক্ষক ও করনিক পদে ১জন মোট ৩৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১৯ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন।কলেজের প্যাডে অধ্যক্ষ‘র স্ব-হস্তে লেখা এ ধরনের প্রশ্ন সরবরাহকারীদের মাঝ থেকে উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরেজমিনে দেখাগেছে,যার সাথে বাস্তবেই অধ্যক্ষ‘র হাতের লেখার হুবুহু মিল রয়েছে। এ ভাবে বিভিন্ন পদের একাধিক প্রার্থীর মাঝে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। যার নিকট থেকে বেশি অর্থ মিলেছে শেষ অবধি তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল আমিন বলেন,তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।