বেতাগী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারিকরনের দাবি

3

মোঃ মহসীন খান,বেতাগী প্রতিনিধিঃ বরগুনার বেতাগী উপজেলার একমাত্র নারী বিদ্যাপীঠ বেতাগী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজকে সরকারি করনের দাবি। গতকাল ২৪ আগষ্ট বুধবার অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির সভাপতি এবিএম গোলাম কবির বেতাগী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরেও সরকারি না হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৯৯টি কলেজ ও ৬৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নাম না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর  প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বেতাগী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজকে সরকারি করনে জোর দাবি জানিয়েছেন।

১৯৬৭ সালে জনসাধারনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা থেকেই নিয়ামানুবর্তিতা,  ব্যবস্থাপনা, পড়াশুনা, ফলাফল, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও ডিজিটিাল ক্লাশের মাধ্যমে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে  দিন দিন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র  এর সুনাম । সরকারি অনুদান ও স্থানীয় বিদে্যুাৎসাহীদের সহযোগিতায় সাধিত হয় যথেষ্ঠ অগ্রগতি। ১৯৯৭  সনে কারিগরি শিক্ষার জন্য এখনে তিনটি ট্রেডের নবম-দশম ভোকেশনাল কোর্স চালু হয়। ১৯৯৮ সনে এইচ এস সি মানবিক ও বি এম কোর্স চালু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে  বরিশাল বোর্ডের অধীনে এস এস সি (সাধারন শাখায়) পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান, উচ্চমাধ্যমিক শাখায় পাসের হারে উপজেলায় পর পর ৫ বার প্রথম স্থান, ভোকেশনাল ও বিএম শাখায় শতভাগ পাসের খ্যাতি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষা বিস্তারে পালন করছে বলিষ্ঠ ভুমিকা। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে রাখছে গৌরবদীপ্ত অবদান। ৬ শতাধিক ছাত্রী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে এবং এখানকার ছাড়াও আশেপাশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এটি প্রাচীন ও অন্যতম  বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে ৪৫ জন শিক্ষক কর্মচারি নিয়োজিত আছেন। সুরক্ষিত পাকা প্রাচীর ঘেরা আধুনিক কোরিয়গ্রাফি ডিজাইনে ফুলের বাগান। ২৪ ঘন্টা প্রহারায় ৬ জন কর্মচারি, সমৃদ্ধ আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদানের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।

একাধিক মন্ত্রী,এমপি ও বিভিন্ন সময় সংশ্লিস্ট বিভাগের প্রায় ডজন খানেক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও সফর করেছেন। সকলেই মুগ্ধ হয়েছেন বিদ্যালয়ের সার্র্বিক পরিস্থিতি দেখে। কারও কারও প্রশংসা  মুখে মুখে। বর্তমানে আওয়ামীলীগ, বিএনপি,ছাত্রলীগ, ছাত্রদল,  ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয়  ছাত্র সমাজসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্রসংগঠন বিদ্যালয়টি সরকারি করনে ঐক্যবদ্ধ।

সব সরকারের আমলেই নারী শিক্ষার প্রতি অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করনের। আশ্বাসে অনেকদূর এগিয়েছিল। এবারে শিক্ষা বান্ধব সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পরে উপজেলায় দুইটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি করনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকলের দাবি বেতাগী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজটি সরকারি করনের।

সংবর্ধি¦ত প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির সভাপতি বেতাগী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান মেয়র এবিএম গোলাম কবির পশ্চাদপদ এলাকার নারী শিক্ষার  উন্নয়ন ও উচ্চ শিক্ষার স্বার্থে বিদ্যালয়টি সরকারি করনের জন্য সরকারের সু-নজড় কামনা করে বলেন, সিডর বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠির খেটে খাওয়া শ্রমজীবি  ও দরিদ্র মানুষের সন্তানাদির বৃহত্তর কল্যানে সংশ্লিস্ট  মন্ত্রনালয়ের নিকট বিদ্যালয়টি সরকারি করনে  পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানাই।