বেড়িবাঁধ ভাঙায় জোয়ারের পানি ঢুকছে চরাঞ্চলে, চরম ভোগান্তিতে দিন কাটছে এলাকাবাসীর

1

 

কামরুল হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি/মিজানুর রহমান রাশেদ, রাঙ্গাবালী প্রতিনিধিঃ জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। সামুদ্রিক জোয়ার-ভাটা অব্যাহত থাকায় সীমাহীন কষ্টে দিন কাটছে চরের মানুষের। বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ব্যাপকভাবে লবণাক্ত পানি ঢুকে তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন ও সর্বশেষ রোয়ানুর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হয়ে ওই ইউনিয়নের নয়ারচর, চরআন্ডা ও চরবেষ্টিন এলাকায় তিন কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো দুই কিলোমিটার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ইউনিয়নের নয়ারচর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারে পানি ওঠে আবার ভাটায় নেমে যায়। তবে ভাটায় পানি নেমে যাওয়ার আগেই জোয়ার পানি ঢুকে তলিয়ে যায় সর্বত্র। ঘরবাড়ির চারপাশে সব সময়ই পানি থই থই করছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ওই চরের বাসিন্দা সিরাজ ফকির বলেন, ‘পোলা-মাইয়া লইয়া ভয়ে থাহি। বাড়ির চাইর ধারে নদি। রক্ষা করনের লাইগা আছিল বাঁধ, তা ভাইংগা গেছে। এহন ভয় আরো বেশি। কখন যে পানি আইয়া মোগোরে ভাসাইয়া লইয়া যায় কে জানে। এহন আল্লাহর ওপর ভরসা কইরে এই চরে আছি।’

স্থানীয়রা জানান, সামুদ্রীক জোয়ার-ভাটা অব্যাহত থাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকে যায় চরমোন্তাজে ইউনিয়নের নয়ারচর, চরবেষ্টিন, চরআন্ডা, উত্তর চরমোন্তাজসহ অন্তত ৬টি গ্রামে। এছাড়া আবার গত এক সপ্তাহে ধরে পূর্ণিমার জোয়ারে স্বাভাবিকের চাইতে ২-৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে চরের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পরিবার সদস্য, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়।

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়ারচর গ্রামের মো. খবির মুন্সি বলেন, ‘বান (বাঁধ) ভাঙ্গে বইন্যা অইলেই। হুনছি য্যারা বান্দের কন্টেকটার হেরা ঠিক মোত কাম না লাভ বেশী করে। এই লইগ্যা একটু পানির চাপ পড়লেই বান ভাইঙ্গা যায়। আর যত দূর্ভোগ পোয়াই আমরা।’

উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের নাসির খান বলেন, ‘ইউনিয়নটির চারপাশে ভয়াল নদী ও সাগর। চরের  মানুষ এমনতেইে ঝড়-বন্যায় কাবু। তার ওপর আবার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে জলোচ্ছ্বাস আতঙ্ক বিরাজ করছে সকলের মধ্যে।’ চরআন্ডা গ্রামের শহিদুল মাঝি বলেন, ‘বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে চরআন্ডার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। আবারও  ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে আবারও বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন, ‘ঝড়-বন্যার আতঙ্ক চরের মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এ চরের মানুষ বেঁচে আছে। এরপর আবার বেড়িবাঁধ ভাঙায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভাঙা থাকায় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম হুমকির মধ্যে রয়েছে। যখন তখন বড় ধরণের জলোচ্ছ্বাস হলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য মারত্মক হুমকি এটি। খুব দ্রুত বাঁধ মেরামত করা দরকার।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের বলেন, ‘জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙ্গাবালীর বেড়িবাঁধগুলো আমরা পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের  করা হবে।