বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের ঢেউয়ের কারনে পায়রা বন্দরে পণ্য খালাস না করে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে এমভি ফরচুন বার্ড’র যাত্রা

4

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের উত্তাল  ঢেউয়ের কারনে ২২ দিন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করার পর পায়রা বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস না করেই  সোমবার  ভোর পাঁচটায় বন্দর থেকে কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে পণ্যবাহী জাহাজ এম ভি ফরচুন বার্ড যাত্রা করেছে। শিপিং এজেন্ট গালফ ওরিয়েন্ট সিওসি লিমিটেড’র প্রতিনিধি সমীর মুৃখার্জী ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন  ঘোষনার পর তিন দফায় ১৩ টি লাইটার জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য এম ভি ফরচুন বার্ড জাহাজের কাছে  পৌছানোর  চেষ্টা করলেও বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের কারনে বারবার পায়রা বন্দরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে লাইটার জাহাজ।

শিপিং এজেন্ট গালফ ওরিয়েন্ট সিওসি লিমিটেড’র প্রতিনিধি সমীর মুৃখার্জী জানান, গত ১ আগষ্ট  থেকে রামনাবাদ চ্যানেলের পায়রা সমুদ্র  থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগরের হিরন পয়েন্টে ৫২ হাজার তিনশ ৭৯  মেট্রিকটন পাথর নিয়ে এমভি ফরচুৃন বার্ড অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, পণ্য  বোঝাই থাকার কারনে জাহাজটির গভীরতা এখন ১২ দশমিক ৭৩ মিটার। সাগর ও রামনাবাদ নদীর গভীরতা কম থাকায় জাহাজটি নিয়ে উপকূলের দিকে আসতে না পারার কারনে লাইটার জাহাজগুলোতে পণ্য খালাস সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে  লোকসান কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে  সোমবার  ভোর ৫টায় কুতুবদিয়ার উদ্দেশ্যে এমভি ফরচুন বার্ড যাত্রা করেছে। গত ২২ দিনে তাঁদের প্রায় তিন  কোটি  লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেন। কুতুবদিয়ায় পণ্য খালাসের জন্য ইতিমধ্যে লাইটার জাহাজ ও ম্যান পাওয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কুতুবদিয়া  থেকে খালাস করা পণ্য লাইটার জাহাজে করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, কুতুবদিয়ায় এম ভি ফরচুন বার্ড  থেকে ২৭ হাজার টন পাথর খালাস করা হবে। এ পণ্য খালাস করতে ৫/৭ দিন সময় লাগতে পারে। ওই পরিমান পণ্য খালাস হলে জাহাজের গভীরতা ৭ দশমিক ৫০ কমে যাবে। তখন আবার তারা পায়রা বন্দরে ফিরে আসবেন এবং পায়রা বন্দরে বাকি পণ্য খালাস করা হবে। তখন আর কোন সমস্যা হবে না।পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য চীন থেকে এই পাথর আমদানি করা হয়েছে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের ভারপ্রাপ্ত  চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন  মো. সাইদুর রহমান জানান, ’দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় এ বন্দরে পণ্য খালাসে বিলম্বিত হয়েছে। তাই পণ্য আমদানিকারকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কুতুবদিয়ায় কিছু পরিমান (প্রায় ৩০ হাজার  মেট্রিকটন) পণ্য খালাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কুতুবদিয়ায় ওই পরিমান পণ্য খালাসের পর আবার এম ভি ফরচুন বার্ড পায়রা বন্দরে ফিরে আসবে বাকি পন্য খালাসের জন্য।’