ভগ্নিপতির অশালিন আচরন এবার প্রান গেল আউলিয়াপুরের সেলিনার

10

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ভগ্নিপতির অশালিন আচরনের ফলে এবার প্রান দিতে হল পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুরের সেলিনার। গত ২৫ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে আউলিয়াপুরস্থ বাপের বাড়িতে ভগ্নিপতির প্ররোচনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় সেলিনা। এ ব্যাপারে সেলিনার বাবা মো: আলেফ মৃধা বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সি.আর মামলা নং-৫৪/২০১৬।

মামলার বিবরন সূত্রে জানাযায়, ভগ্নিপতি  মো: সুমনের(৩৫) সেলিনার প্রতি কু নজর ছিল। সে দির্ঘদিন যাবৎ সেলিনার বিবাহে বাঁধা দিয়ে আসছিল। এমনকি সে বিভিন্ন যায়গায় বলাবলি করত স্ত্রী রুমা বেগমকে তালাক দিয়ে সেলিনাকে বিয়ে করবে। এরই মধ্যে বহালগাছিয়ার নুরুল হক হাওলাদারের ছেলে মো: হাসিবের সাথে সেলিনার বিয়ে ঠিক হলে  সুমন গত ১৮ জানুয়ারি দেশিয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত কতিপয় দুস্কৃতিকারিকে সংগে নিয়ে সেলিনার বিয়ে না দেয়ার জন্য তার পরিবারকে হুমকি দেয়। সেলিনার পরিবারের লোকজন মানসম্মানের ভয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ না করে ২০ জানুয়ারি তার বিয়ে দেয়। বিয়ের খবর পেয়ে সুমন সেলিনার স্বামী হাসিবের মোবাইলে বিভিন্ন অশালিন কথা বলে ও তাকে জানায় সেলিনা তার স্ত্রী এবং তার সংগে সংসার করছে। বিষয়টি হাসিব সেলিনাকে জানালে সেলিনা মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ঘটনার দিন সকালে সে সেলিনার বাড়িতে এসে বলে তোর সংসার ভেঙ্গে দিয়েছি এখন তুই আমার সংসার করবি নতুবা আত্মহত্যা করবি। এ কথার জেরে সেলিনা ঘরের দোতলায় সিলিং-এর আড়ার সাথে প্লাষ্টিকের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। দুপুরে সুমন বাড়িতে এসে খোঁজাখুজি করে সেলিনাকে না পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে আশপাশের লোকজন দোতলার দরজা ভেঙ্গে সেলিনার মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। তাৎক্ষনিক এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান জানান, থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে আদালত নির্দেশ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।