ভীতি কাটিয়ে গণিতকে ভালোবাসতে হবে পটুয়াখালীতে গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত

4

pic-3ডেস্ক রিপোর্ট : কয়েক দিনের প্রচন্ড ঠান্ডা আর কুয়াশা কাটিয়ে সকাল থেকেই ঝলমলে রোদ। সেই ঝলমলে সকালে আরো রাঙ্গিয়ে তুলেছে উৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন। এই উৎসব গণিত জয়ের উৎসব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০১৬ এর আঞ্চলিক পর্বে সোমবার সকালে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো.সামসুদ্দিন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. সামসুদ্দিন বলেন, ,গনিতকে ভয় করলে চলবেনা। ভীতি কাটিয়ে গনিতকে ভালোবাসতে হবে। গণিত যদি ভালো ভাবে আয়ত্ব করা যায় , তাহলে এর চেয়ে সহজ কোন বিষয় হতে পারেনা। গণিতের বিষয় বস্তু বুঝতে পারলে মেধা বিকাশ ঘটবে এবং যুক্তি ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করবে। তিনি প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ ধরনের শিক্ষা মূলক ও সৃষ্টিশীল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য আহবান জানান।

উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, এবাদুল ইসলাম বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ৩৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬০০ জন শিক্ষার্থী উৎসবে অংশ নেয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মূল পর্ব গণিত অলিম্পিয়াডে প্রাথমিক, নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক- এই চার বিভাগে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের একটি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এর পর মূল মঞ্চে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীরা গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিষয়ের ওপর বিভিন্ন ব্যাতিক্রমী ও জটিল প্রশ্ন করে জিতে নেয় বই পুরস্কার। এই পর্বে সঞ্চালন করেন, জাহিদ হোসাইন খান।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর গণিত বিভাগের প্রধান ড. বেল্লাল হোসেন, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের গনিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুর রহমান, একেএম কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান গৌতম কুমার দাস, সরকারি মহিলা কলেজের গনিত বিভাগের প্রভাষক মতিয়ার রহমান। মজার মজার ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন আর অতিথিদের উত্তরের মধ্য দিয়ে প্রানবন্ত হয়ে ওঠে উৎসব অঙ্গন। উৎসবে বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক দল ‘আয় আয় আয় গণিতের আঙিনায়’ শীর্ষক গণিতের গান পরিবেশন করে।

উৎসবে ভেন্যু প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো, এবাদুল ইসলামের হাতে আমন্ত্রিত অতিথিরা ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এর পর অতিথিদের বক্তৃতা পর্বে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রধান ড. বেল্লাল হোসেন বলেন, আজকে এই ক্ষুদে গণিতবিদদের মধ্যে নতুন আলো দেখতে পাচ্ছি। ওরাই আগামিদিনে আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিবে। পটুয়াখালী সরকারি কলেজের গনিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের গণিতকে ভয় না করে নিয়মিত গনিতের চর্চা করার আহবান জানান। একেএম কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান গৌতম কুমার দাস বলেন, আমাদের সকল চিন্তায় গণিত(হিসাবনিকাশ) থাকে। সকাল শুরু হয় ঘনিত দিয়ে, রাতও শেষ হয় গণিত। বলতে গেলে সর্বত্রই গণিতের ব্যবহার। তাই গণিতকে জয় করতে পারলে আমাদের পথচলা সহজ হবে। সরকারি মহিলা কলেজের গনিত বিভাগের প্রভাষক মতিয়ার রহমান বলেন, গণিত নিয়ে এরমক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতভীতি দুর হবে। আরো আগ্রহ বাড়বে গণিতের প্রতি। উৎসবে স্বাগত বক্তব্য রাখের বন্ধুসভা পটুয়াখালীর সভাপতি মিজানুর রহমান ও প্রথম আলোর পটুয়াখালী প্রতিনিধি শংকর দাস।

সমাপনি বক্তব্যের পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরন। পটুয়াখালী অঞ্চলে বিজয়ী হয়েছে ৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রাথমিক শাখায় সাত জন শিক্ষার্থী। নি¤œ মাধ্যমিক শাখায় ১০ জন, মাধ্যমিক শাখায় ১২ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ১১ জন।

পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, এবাদুল ইসলামসহ অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের পদক, সনদ ও টি-শার্ট তুলে দেয়।

দেশব্যাপী এবার চতুর্দশবারের মতো গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উৎসবের মাধ্যমে ২০১৬ সালে হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় ৫৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের দল নির্বাচন করা হবে। এ বছর মোট ২৪টি জেলায় আঞ্চলিক গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আঞ্চলিক গণিত উৎসবের বিজয়ীরা ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় চতুদর্শ বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।

‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ শ্লোগান নিয়ে আয়োজিত পটুয়াখালী অঞ্চলের গণিত উৎসবের পৃষ্টপোষকতায় রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে উৎসবটির ব্যবস্থাপনা করেছে প্রথম আলো। এতে সহযোগিতা করেছে পটুয়াখালী বন্ধুসভার সদস্যরা।