মটর সাইকেল চালককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

0

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলীর উত্তর টিয়াখালী গ্রামে শনিবার ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলের চালক মো: মামুন (২২) কে ওই একই এলাকার চার মাদক সেবী নাসির খাঁ, খোকন হাওলাদার, বশির খাঁ ও রাজিব খাঁ মিলে ধরে আঊয়ূব আলী খানের একটি খালী বসত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে দড়ি দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। নির্যাতনের খবর পেয়ে  ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে এলাকা বাসীর সহযোগিতায় উদ্ধার করে তাকে ওই দিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা করে।

এলাকার প্রত্যাক্ষ দর্শী সুমন মৃধা ও নুরুল ইসলাম শরীফ জানান, শনিবার সকাল ৯ টার দিকে চলাভাঙ্গা গ্রামের আইয়ূব খানের ছেলে মামুন মটর সাইকেল চালিয়ে উত্তর টিয়াখালী গ্রামের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ওই গ্রামের কালু খানের ছেলে নাসির  খাঁ রশিদ হাওলাদারের ছেলে খোকন হাওলাদার, আইয়ূব খানের ছেলে রাজিব খাঁ ও  কালু খানের ছেলে বশির খাঁ মিলে মামুনকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে আইয়ূব খানের ঘড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মামুনকে দড়ি দিয়ে খুটিতে বেঁধে ঘরের দরজা বন্ধ করে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। মামুনের ডাক চিৎকার শুনে এলাকাবাসী কাছে আসলেও মাদক সেবী নাসির, খোকন, বশির ও রাজিবের ভয়ে মামুনকে ছাড়াতে কেউ সাহস করেনি।   আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: মোতাহার উদ্দিন মৃধা  জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামুনকে নির্যাতনের খবর পেয়ে ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ ওহাবকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। ওহাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর সহয়োগিতায় মামুনকে বন্ধী দশা থেকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসে। মামুনের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাৎক্ষনিক তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  নির্যাতিত মামুন জানান, মাস খানেক আগে মাদক সেবনের অভিযোগে নাসির ও খোকনকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। ২৬ দিন  জেল হাজতে থাকার পর তারা মুক্ত হয়ে এর জন্য আমাকে তারা দায়ী করে শনিবার সকালে আলম গাজীর নির্দেশে  আমাকে তারা  উত্তর টিয়াখালী স্কুলের সামনে থেকে ধরে আইয়ূব আলী খানের খালি বসত ঘরে নিয়ে খুটির সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ও চৌকিদার গিয়ে আমাকে  উদ্ধার কওে হাসপাতালে নিয়ে আসে। মামুনের মা ডলি বেগম জানান, মিথ্যা অভিযোগে নাসির, খোকন, রাজিব ও বশির আমার পোলাডারে বেদম মাইর দেছে। অর শরীরে অবস্থা খুব খারাপ। এহনও মাথা খারা করতে পাওে না। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসা সহকারী শাহিন সুলতানা জানান, মামুনের শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে আমরা বরিশাল রেফার করি। আমতলী  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, নির্যাতনের কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।  অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।