মহিপুরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পানিবন্ধী ৫টি গ্রাম

3

 

মোঃ মনিরুল ইসলাম মহিপুর প্রতিনিধি ঃ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত, নি¤œ মানের কাজের কারনে অবারও বেরি বাধ ভেংগে গতকাল ০২ জুলাই পানিবন্ধী হল মহিপুর থানার ৫টি গ্রাম। নির্মান কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাত্র আট থেকে দশ মাসের মাথায় বাঁধটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর পর থেকে পানিবন্ধী রয়েছে ওই ৫ গ্রামের মানুষ। যেন দেখার কেউ নেই।

স্থানীয় বৃদ্ধ এসাহাক হাওলাদার জানান, মহিপুরের নিজামপুর, সুধীরপুর, ইউসুফ পুর, কমর পুর, পুরাণ মহিপুর এই ৫ গ্রামের জনজীবন চড়ম বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। ঘরবাড়িসহ তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের বীচ তলা, চাষাবাদ রয়েছে বন্ধ, মৎস্য চাষীদের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন।ইউসুফ পুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মাদবার জানান, বর্তমানে কৃষি নির্ভরশীল পরিবার গুলোর মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। নৌকাই হল ওইসব গ্রামের মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম। জোয়ারের লবন পানি পুকুর জমে থাকায় নিরূপায় হয়ে সাধারন গৃহস্থলির কাজে ব্যবহারের করছেন। ফলে দেখা দিয়েছে পানি বাহিত রোগের প্রার্দুভাব। গৃহীনি কহিনুর বেগম জানান, উচু মাচা পেতে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে । মৎস্য চাষী কালাম আজাদ বলেন, বার বার প্লাবিত হওয়ায় মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে এখন একে বারে নিঃস্ব। জীবন বাচাঁনোর চেষ্টায় আছেন তাঁরা। জোয়ারের পানি কখন এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এই শংকায় রাতের বেলায়ও ঘুমাতে পারেন না পানি বন্ধী এলাকার মানুষ। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও গবাদি পশুর মিঠা পানি সংকট। প্রধান শিক্ষখ শামসুল আলম ভদ্র জানান, যে কোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার শংকায় রয়েছে নিজামপুর স. প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানি বন্ধী শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ব্যবস্থা পড়ছে অনিশ্চয়তায় মধ্যে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত বাধ নির্মান, অবহেলা, সুষ্ঠ তদারকির অভাবে নি¤œমানের কাজের কারনে বেরি বাঁধ ভেংগে পানির নিচে তলিয়ে আছে প্রায় দশ হাজার একর ফসলী জমি, পুকুর-মাছের ঘের, বাড়ি ঘর এমন অভিযোগ সংশ্লিস্ট ইউনিয়ন পরিষদ জনপ্রতিনিধিদের। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জানান, এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। অচিরেই ব্যাবস্থা নেয়া হবে।সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকৃত অবস্থা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর খুব শ্রীঘ্রই স্থায়ী রিং বাঁধ নির্মান করা হবে এমনটাই জানান সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়া, পটুয়াখালী।

দূর্ভোগ বিবেচনায় স্থায়ী টেকসই বেরিবাধ ও সুইজ গেট নির্মান করে সমস্যা সমাধান করা হবে এমনটাই প্রত্যাশাই করছে পানি প্লাবিত এলাকার র্দুভোগী মানুষ।