মহিপুর মৎস্য বন্দরের সড়ক গুলোর বেহাল দশা

2

 

 

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া ঃ বেহাল দশা পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরের সড়ক গুলোর, মহিপুর জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে ৩ কিঃ মিঃ এবং পূর্ব দিকে ৪ কিঃ মিঃ রাস্তা চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কের মধ্যে অসংখ্য খানা খঁন্দ সৃস্টি হওয়ায় ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে জনসাধারণ। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় গর্তের সৃস্টি হয়ে এটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকার অন্যতম সাপ্তাহিক বাজার মৎস্য বন্দর মহিপুর। ফলে এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষি ও সাধারণ মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আসেন এ বাজারে। মহিপুরের সড়কগুলোর বেহাল দশা হওয়ার কারনে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলাদি বাজারজাত করতে পরিবহন নিয়ে এসে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অন্যদিকে মহিপুরে রয়েছে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ভূমি অফিস, কয়েকটি সরকারি-বেসরকারী ব্যাংক, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজ, ২০-২২ টি বরফকল। বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গের বৃহত্তম মৎস্য বন্দর মহিপুর। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকের আগমন ঘটে এখানে। অপরদিকে স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের অনেকেরই এ সড়ক দিয়ে মহিপুর আসতে হচ্ছে। মৎস্য বন্দরের নদী ঘেষা বরফকল থেকে বিভিন্ন সময় নৌ-পথ ছাড়াও স্থল পথ দিয়ে বরফ নিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

 

মহিপুর জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে ৩ কিঃ মিঃ এবং পূর্ব দিকে ৪ কিঃ মিঃ রাস্তা চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপর দিকে মহিপুরের অদুরে নিজামপুর বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ভিতরে পানি প্রবেশ করায় সেখানকার হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। সমুদ্রের পানি প্রবেশ করায় শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে পানি ভিতরে প্রবেশ করে। তখন অসহায় হয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে ওই সকল মানুষদের।

 

নিজামপুর গ্রামের নুর মোহাম্মাদ বলেন, নিত্যদিন আমাদের মৃত্যুর সাথে যুদ্ধকরে বাঁচতে হচ্ছে। একই গ্রামের মোকলেছ গাজীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নির্বাচন এলে নেতারা বিভিন্ন সময় অনেক আশার বাণী শুনান, কিন্তু কাজ শেষ হলে তাদের আর খবর থাকে না।

 

মহিপুর ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা বশির আকন বলেন, ডিজিটাল যুগে এ অঞ্চলের রাস্তা-ঘাট এ অবস্থায় থাকার কথা নয়। এখানকার নেতাদের কাজ করতে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। রাস্তা সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

 

এ ব্যাপারে মহিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ ছালাম আকন বলেন, আমি মহিপুরের রাস্তা-ঘাট সংস্কারের জন্য এমপি মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং চেষ্টা চালাচ্ছি।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আঃ মান্নান বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক গুলোর ইতোমধ্যে আমরা তালিকা করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছি এখন বরাদ্দ পেলে কাজ করা যাবে।

 

কলাপাড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খায়ের বলেন, বর্তমানে কোন বরাদ্দ নেই, বরাদ্দ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

#