মাছ চাষে সফল আমতলীর আব্দুল জলিল 

1

 

কে এম সোহেল, আমতলী : বরগুনার  আমতলী উপজেলার পশ্চিমচিলা  গ্রামের আঃ জলিল, বয়স ৪৪ বৎসর। কর্মজীবনের শুরুতে যশোরসহ নানান জায়গা থেকে পোনা সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। বর্তমানে পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে বসবাস করেগড়ে তুলেছেন মাছের খামার, হয়েছেন একজন আদর্শ মাছ চাষী। তিন দশকের সংসার জীবনে পাশে থেকে কাজে উৎসাহ ও সহযোগীতা করে আসছেন স্ত্রী  মোসাঃ শিউলি  বেগম। ২টি পুকুর ঘেরসহ মোট ৪৫  শতাংশ জমির উপর রয়েছে তার রেনু উৎপাদন খামার। ১২ বছর আগে তিনি রেনু উৎপাদন শুরু করেন ।  ২০০৭ সালে সিডরে  তার খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সরকারী সহায়তার জন্য চেষ্টা তদবির করে কোন ফল না পেয়ে বিষন্নতায় ভুগতে থাকেন তিনি। হঠাৎকরে একদিন ওয়ার্ল্ডফিস এর কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন তার নার্সারী সহ আশপাশের বেশ কিছু মৎস্য খামার। তাদের সহায়তায় আবার পোনা এনে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। নিজে পোনা উৎপাদন করতে গিয়ে নানার অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় তাকে। ২০১২ সালে ইউএসএআইডি এআইএন আমতলী  উপজেলাতে কাজ শুরু করে । প্রকল্পে নতুন ভাবে সদস্য নির্বাচনের সুযোগ পায় কোডেক। খোঁজ করা হয় নার্সারী ব্যবসার সাথে যুক্ত চাষীদের। প্রকল্পের শুরুতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তিনি নার্সারী প্রশিক্ষণ সহ মাঠ পর্যায়ে মোট ১০ টি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নার্সারী করার জন্য নিজের ২ টি পুকুরের পাশাপাশি আরও  ২৩টি পুকুর ঘের  লিজ নেন নগদ জমায়। নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিচর্চার মাধ্যমে পুকুর ও ঘের প্রস্তুত করেন তিনি। ২৫ শতাংশের একটি পুকুর আতুড় পুকুর হিসাবে ব্যবহার করে সেখানে ওয়ার্ল্ডফিস এর নির্বাচিত হ্যাচারী থেকে রুই, কাতলা ও কার্প জাতীয় মাছের উন্নত মানের রেনু ফেলা হয়। রেনু ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের নিয়ম ব্যবহার করে তিনি।  রেনু মজুদ এর ১২ দিন পর পুকুরে জাল টান দিয়ে অবাক হন তিনি। এরপর আতুড় পুকুরে একের পর এক রেনু আনতে থাকেন , আর মজুদ পুকুর থেকে পোনা বিক্রয় করতে থাকেন। তার পুকুর কখনো খালি থাকে না। হয় রেনু, না হয় পোনা অথবা বড় মাছ। পুকুরে সব সময় মাছ থাকতে হবে তার। নার্সারী ব্যবসার উন্নতির সাথে সাথে আর্থিক উন্নতি হয়েছে আঃ জলিলের । এলাকাতে সফল নার্সারার হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত সে। নতুন কেউ নার্সারী বা মাছ চাষ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করলে  জলিল মিয়ার পরামর্শ নেন তারা। বর্তমানে একজন সফল নার্সারার তিনি এখন আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়না তাকে। তার নার্সারী থেকে ২০/২৫ জন পাতিল ওয়ালা পোনা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। তার নিজ গ্রামে মায়ের দোয়া মৎস্য নার্সারী নামে প্রতিষ্ঠানটি পরিচিত। নিজে মাছের খাবার তৈরীর জন্য সেমী অটো ফিড মিল স্থাপন করার আশা করেন তিনি। এতে নিজের যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি এলাকার উপকার হবে।

জলিল মিয়া জানান, আমার জ্ঞান আর সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাকে পরিপূর্ন নার্সারার হিসাবে গড়ে তুলেছে। প্রকল্প থেকে যা পেয়েছি তা আমার জীবনের শ্রেষ্ট পাওয়া । এমন সহায়তা আমাকে কেউ করেনি। বর্তমান অবস্থা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন আমি একনিষ্ট ভাবে পোনা উৎপাদন করে চলেছি। সংসারে সকলে আমাকে গুরুত্ব দেয় এবং সহযোগীতা করে। আগামীতে আরও বেশ কিছু পুকুর নিয়ে নার্সারী পেশার সাথে সাথে কই ও শিং এর হ্যাচারী স্থাপনের মাধ্যমে এলাকায় মাছ চাষে  ভুমিকা রাখতে চাই। তিনি আরও বলেন, খাদ্য তৈরীর একটি মেশিন স্থাপন করে মাছের খাদ্যকে এলাকার মাছ চাষীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। মিনি হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি।