মির্জাগঞ্জের শ্রীমন্ত নদীর ভাঙ্গনে বসত ঘরসহ সড়ক নদীতে বিলীন

0

 

মোঃ বাদল হোসেন মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে শ্রীমন্ত নদীর ভাঙ্গনে বসতঘর সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটকের আন্দুয়া গ্রাম থেকে বাদল ফকির,হিরন হাওলাদার, দেলোয়ার,শহিদ হাওলাদার, আবদুল মালেক হাওলাদাসহ প্রায় ১০টি বসত ঘর শ্রীমন্ত নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাদল হাওলাদার বলেন,এ পর্যন্ত চারবার ঘর সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র নতুন ভাবে বসতি স্থাপন করেছি। কতবার আর বসত ঘর পাল্টানো যায়। এখন আর আমার সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। বাপের যে জমি-জমা ছিল তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদীর পারে বসতি স্থাপন করেছি। তাও ভাঙ্গনের মুখে। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু ভেঙ্গে গেলে কোথায় গিয়ে থাকব। এখানে প্রায় ৮থেকে ১০টি পরিবার একাধিকবার বসত ঘর সরিয়ে নিয়েছে শ্রীমন্ত নদীর ভাঙ্গনের কারনে। ভাঙ্গনের কারেন ইতি মধ্যে এলজিইডি বিভাগের সুবিদখালী হেড কোয়ার্টার থেকে মির্জাগঞ্জ-আন্দুয়া-ভিকাখালী সড়কের উত্তর ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে নদীতে গর্ভে চলে গেছে। চলাচলের জন্য ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। ভাঙ্গন রোঁধে বাঁশ দিয়ে পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও তা নদীতে ভেঙ্গে যায়। চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা নির্মান করা হয়েছে। এদিকে পায়রা নদীর মোহনার শ্রীমন্ত নদীর উত্তর তীরের মির্জাগঞ্জ পুরাতন থানা সংলগ্ন থেকে পশ্চিমে কপালভেড়া মহিলা মাদ্রাসা পর্যন্ত নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে। ওই স্থানে একাধিকবার বেড়িঁবাধ নির্মান করা হলেও ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মনিরুল হক লিটন সিকদার বলেন, সম্প্রতি রোয়ানুর প্রভাবে উপজেলার মধ্যে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শ্রীমন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে পানির তোড়ে ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিন এসব ভাঙ্গন থেকে জোয়ারের সময়ে পানি ঢুকে কৃষকের আউশ ও আমনের বীজতলায় ক্ষতি হচ্ছে। এ ইউনিয়নটির চারিদিকে নদী বেষ্টিত। তাই একদিকে পায়রা নদী আর অন্যদিকে শ্রীমন্ত নদী। দুই নদীর ভাঙ্গনের কারেন বহু পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। এদিকে পিপড়াখালী থেকে সুন্দ্রা পর্যন্ত পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ না থাকায় দিনে দু’বার করে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প¬াবিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলাপ হয়েছে। পায়রা ও শ্রীমন্ত নদীর ভাঙ্গন রোধে অতিদ্রুত কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে।