মির্জাগঞ্জে পায়রার ভাঙ্গনে মুখে পড়েছে কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকা

2

 

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকাসহ বাজারটি পায়রার নদীর ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছর আগে লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কাকড়াবুনিয়া বাজারের পূর্ব পাশে পায়রার নদীর পাড়ের ৭ থেকে ৮টি ঘর ভাঙ্গনের কারনে দোকান ও বাড়িগুলো সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন আমতলী থেকে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে আসা দোতালা লঞ্চ কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাটে যাত্রী ওঠানামা করার সময় কাঁদাপানি ভেঙ্গে যাত্রীদের উঠতে হয়। এখানে লঞ্চ ঘাট দেয়ার জন্য পল্টুন থাকলেও পায়রা নদী ভাঙ্গনের কারনে পল্টুনটি মাটির উপরে চড়ে উঠেছে এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য সিড়িঁটি পানির স্রোতের তোড়ে ভেঙ্গে দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ফলে দোতালা লঞ্চগুলো নদীর চড়ে মাটিতে ঘাটদিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে বাদ্যে হচ্ছে। এতে এ এলাকায় ভাঙ্গন তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই অবস্থা উপজেলার ভয়াং লঞ্চঘাটের। এদিকে পায়রা নদীর ভাঙ্গনের কারেন উপজেলার মেন্দিয়াবাদ ও পিপড়াখালী গ্রাম দুটি অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়ার পথে। দুটি গ্রামের কয়েক হাজার জমি বসত ঘর পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাট এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করার ফলে পিপড়াখালী গ্রামটিসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টান হুমকির মুখে। স্তানীয়া বলেছেন,পিপড়াখালী বাজার ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বাজারে প্রায় ৩ শতাধিক দোকানপাট ছিলো। এখন বেড়িঁবাধের ওপর ৪ থেকে ৫ টি দোকান রয়েছে। অন্যরা স্থান নিয়েছে বিভিন্ন যায়গায়। উপজেলাটি পায়রা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কারনে ভাঙ্গনের মাত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় ছোট হয়ে যাচ্ছে মির্জাগঞ্জের মানচিত্র। পায়রার অব্যহত ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে উপজেলার গোলখালী, চরখালী, রানীপুর, হাজীখালী, মেন্দিয়াবাদ, সাতবাড়িয়া, কাকড়াবুনিয়া বাজার, ভয়াং, মনোয়ারখালী, কলাগাছিয়া, পিপঁড়াখালী,রামপুর এবং ভিকাখালী বাজার, সুন্ড্রা বাজার ও কাকড়াবুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ গ্রামের ঘরবাড়ি এবং ফসলী জমি পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। উপজেলার মজিদবাড়িয়া ও কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জেলে সমিতির সভাপতি মোঃ আলী আকব্বর জানান, আমার এ পর্যন্ত ১১২০ শতাংশ জমি (স্থানীয় ৭ কানি) জমি পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সয় সম্পত্তি হারিয়ে পায়রা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। এ বছরে যে পরিমানে নদী ভাঙ্গন হয়েছে তা আমার বৃদ্ধ বয়েসেও দেখিনি। রাক্ষুষে পায়রা নদী বাড়ি-ঘড়,জমি-জমা সবই গ্রাস করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে কাকড়াবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মাষ্টার বলেন,পায়রার ভাঙ্গনে কাকড়াবুনিয়া বাজারের লঞ্চঘাটটি বিলীন হওয়ার পথে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।