মির্জাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0

 

3

 

মোঃ ফারুক খান, মির্জাগঞ্জ ঃ পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ ওয়াজেদ মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসকল ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের পক্ষে উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার আঃ আজিজ মৃধা বাদী হয়ে পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ডার এম.এ হালিমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত শনিবার বিকালে গঠিত তদন্ত কমিটি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে উপজেলার দেউলী বাজারে প্রকাশ্য জনসম্মুখে অভিযোগকারীদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এক সভায় মিলিত হন। যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার মোঃ আলতাফ হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এ সুলতান মিয়া। অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ করিম বলেন ২০০৯ সালে ঢাকা থেকে সার্টিফিকেট আনার জন্য ১৪ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন করে সার্টিফিকেট না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন ওয়াজেদ মিয়া। ২০১৪ সালে মন্ত্রনালয়ে গিয়ে জানা যায় ২০১০ সালে কমান্ডার ওয়াজেদ মিয়া তার সার্টিফিকেট নিয়ে গেছেন। পরে জিজ্ঞেস করলে করিম মিয়ার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়। দেরীতে সার্টিফিকেট দেয়ার কারনে আঃ করিমের ছেলের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা আঃ বারি মিয়ার কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৮ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহন , মুক্তিযোদ্ধা ইউনুচ শরীফের স্ত্রীর কাছ থেকে নাম সংশোধনের জন্য ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়া, মুক্তিযোদ্ধা পানজাত আলী মাষ্টারের কাছ থেকে ভাতা উত্তোলন জন্য ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন তিনি। এছাড়াও ২০১৪ সালে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ২টি ঘর বরাদ্ধ পাওয়া যায়। পরিপত্র অনুযায়ী অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন সময় পাকবাহিনী যাদের বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের নাম না দিয়ে প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াজেদ মিয়া নিজের নামে ঘর বরাদ্দ নেন। মুক্তিযোদ্ধাদের না জানিয়ে নিজের নামে রাস্তার নাম করন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তদন্ত কমিটির সামনে সকল মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠ বিচার চান এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াজেদ মিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন না করে কিভাবে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হলেন তার কারণ জানতে চান।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম.এ হালিম জানান, জনসম্মুখে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তদন্ত হয়েছে এর অনেকটাই সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াজেদ মিয়া বলেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার সকল সনদ আছে।

যুদ্ধকালীন কমান্ডার আলতাফ হায়দার বলেন ওয়াজেদ মিয়া কোন দিনই যুদ্ধ করেননি। কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত হলো তা আমি জানি না। উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধারা বলেন ওয়াজেদ মিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছে তা আমাদের জানা নেই।