মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে নিহত বাবু নিরঞ্জনের নাম মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহিদ তালিকায় উঠেনি।

0

 

কে এম সোহেল ,আমতলী প্রতিনিধি ঃ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে হত্যা কান্ডের শিকার হলেও মুক্তিযোদ্ধা / শহীদ মুক্তযোদ্ধার তালিকায় ঠাই হয়নি। আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের মৃত শরৎ চন্দ্র্র বিশ্বাসের পুত্র  আমতলীর ব্যবসায়ী প্রথম  শ্রেনীর ঠিকাদার বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাসের ।

বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাস  জীবন বাজি  রেখে  দেশের জন্য বুক  পেতে দিয়েছিলেন পাক বাহিনীর অস্ত্রের সামনে বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাসের  মতো মানুষের কারণে আজ স্বাধীন-সার্বভৌম একটি দেশ  পেয়েছি আমরা। সেই স্বাধীন  দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করছি।

সততা ও সাহস মানুষকে তার চূড়ান্ত  লক্ষ্যে নিয়ে যায়। যত বাধাই আসুক না  কেন  কোনো কিছুই তা দমন করতে পারে না। প্রগতিশীল পরিবারে জন্ম  নেয়া বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাস  স্বভাবগতভাবেই ছিলেন স্বাধীনচেতা এবং আপসহীন এক প্রগতিশীল যুবক। ৭১ সালে ২৮ বছরের যুবক বাবু নিরঞ্জন পশ্চিমা হায়েনাদের শাসন ও  শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাস  স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ বাজি  রেখে যুদ্ধে অংশ  নেন। নিরঞ্জন বিশ্বাসের ছোট ভাই মনু বিশ্বাস বলেন , আমার মা  আমাদের বলেছেন আমতলীর  আওয়ামীলীগ নেতা জি এম দেলওয়ার হোসেনের সাথে  আমার ভাই বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাস পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছে ।

তিনি বলেন  মা আরো   বলেছে   যে   ৪ ঠা আগষ্ঠ ১৯৭১ সালে ভোর বেলায় দাদায় (নিরঞ্জন বিশ্বাস) আমাদের  গলাচিপার বাসায় আসে  । আসার পর খাবার খায় খাওয়ার কিছুক্ষন পর  দাদায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমতলী পানি উন্নয়ন বোর্ড ওয়াপদার পিছনে ব্রিক ফিল্ডে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়ে আমতলী চলে যান।

বিকাল তিনটায় আমাদের  গলাচিপার বাসায় আমতলী থেকে খবর আসে দাদাকে (বাবু নিরঞ্জন বিশ্বস) পাকবাহিনী  ধরে নিয়ে গেছে। খোজ খবর নিয়ে  জানা যায় , তাকে পটুয়াখালী পুরাতন জেলখানায়  রাখা হয়েছে। সকাল বেলা আমাদের বাসার লোকজন জানতে পারে  দাদাকে (বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাস) কে পাকবাহিনী হত্যা করেছে । তার লাশটিও আমাদের পরিবার খুজে পায়নি।

আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জি এম দেলওয়ার হোসেন  বলেন বাবু নিরঞ্জন কে পাকবাহিনী ৪ ঠা আগষ্ঠ আমতলী থেকে ধরে  নিয়ে গেছে ।তাকে পটুয়াখালী পুরাতন জেল খানায়  হত্যা করে পাক বাহিনী এ ঘটনা সত্য । তিনি আঠারগাছিয়া ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটির সাধারন সম্পাদক ছিলেন।  তার নাম মুক্তিযোদ্ধা / শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে  নাম অর্šÍভূক্ত করা উচিৎ।

বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাসের  ছোট ভাই মনু বিশ্বাস  শহিদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বাবু নিরঞ্জন বিশ্বাসের নাম অর্šÍভূক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী . মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী , মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউ¯িœলের চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।