মোবাইল ব্যাংকিং বাউফলে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার

3

 

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করতে হয়রানির শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ কারনে চলতি কিস্তির (জুলাই-ডিসেম্বর) টাকা তুলতে পারেনি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে মোবাইল ফোনে এসএমএস পেলেও একাউ›টে টাকা জমা হয়নি।

জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে উপবৃত্তি লেনদেন অ্যাকাউন্ট হিসেবে এসএমএসের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পান উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। তবে বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী ওই ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিকটস্থ এজেন্ট থেকে ক্যাশআউট করতে পারেনি এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। মোবাইলফোন ও সিম হারিয়ে কিংবা ‘পিন’ নম্বর (গোপনীয় নম্বর) ভুলে গিয়েও টাকা তুলতে ব্যার্থ হয়েছে অনেকে। এসএমএস পেলেও মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা যোগহয়নি কারো রয়েছে এমন অভিযোগ। ধানদী ফাজিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী ওয়াহিদা (ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট নং-২০১১/১৬৪৭, আইডি নং- ৫৪৮) অভিযোগ করেন, সুবিধাভোগি দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রী প্রত্যেকে দুই হাজার ১শ’ টাকা করে উপবৃত্তির টাকা তুলতে পারলেও নিকটস্থ উপজেলা সদরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্টের নিকট একাধিকবার ধরণা দিয়েও তার অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা যায়নি। অনেকবার চেস্টা করেও ক্যাশ আউট করতে পারছেন না এজেন্টের লোকজন। একই অবস্থা কেশবপুর ফজলুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম, আলিম শ্রেণির সানজিদা, তানিয়া আক্তার, সপ্তম শ্রেণির ফাতিমা, মুক্তা ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া, তালজিলা ও মুক্তার। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের স্থানীয় কেশবপুর চৌরাস্তা এলাকার এজেন্ট সুশান্ত দাসের কাছে গিয়ে ক্যাশ আউটে ব্যার্থ হন তারা। একই ধরণের অভিযোগ ধানদী মডেল হাই স্কুলের ৮ম শেণির ছাত্র আল-ইমরানের। এসএমএস পেলেও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি অভিযোগ করেন নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী আ. মোতালেব ও ইন্দ্রকুল মাদ্রাসার সুখি আক্তার। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিকটস্থ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করতে না পারা, মোবাইলফোন ও সিম হারিয়ে কিংবা ‘পিন’ নম্বর (গোপনীয় নম্বর) ভুলে যাওয়া, এসএমএস পেলেও মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ না হওয়ার মতো হয়রাণির শিকারসহ চলতি কিস্তির উপবৃত্তির টাকা তুলতে পারেনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী।

কেশবপুর ফজলুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. সোলায়মান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা জানানো হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক কর্মকর্তা পটুয়াখালী জেলা সদর শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। এটা আরেক ধরণের হয়রাণি।’

এ ব্যাপারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জেলা ইনচার্জ মো. মাহতাব আলী (০১৭৯২৬২৫৮০০) বলেন, ‘হয়রানির কিছু নেই। পিন ভুল দেওয়ার কারণে কারো অ্যাকাউন্ট ব্লাক লিস্টে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ১৬২১৬ নম্বরে যোগাযোগ  করতে বলা হচ্ছে। যে সকল শিক্ষার্থী ক্যাশ আউট করতে পারেনি আমরা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে তাদেরকে জেলা শাখায় যোগাযোগ করতে বলেছি। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট না হওয়া শিক্ষার্থীদের টাকা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপবৃত্তি তুলতে না পারা শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। অ্যানালগ পদ্ধতির মাধ্যমে হলেও আগামি দশ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।