যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবোধুকে পিটিয়ে জখম

3

এম.নাজিম উদ্দিন, বাউফল প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের টাকা না পেয়ে রাবেয়া বেগম(২৫) নামের এক গৃহবোধুকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে দাশপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামে এঘটনাটি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, ৮ বছর আগে খাজুরবাড়িয়া গ্রামের সোনালী প্যাদার ছেলে রাজমিস্ত্রী আবুল কালামের(৩৫) সাথে একই এলাকার দিনমজুর আলাউদ্দিনের মেয়ে রাবেয়া বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সন্তানের সুখের জন্য দিনমজুর আলাউদ্দিন ধার-দেনা করে স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ২ লক্ষ টাকার মালামাল দেয় মেয়ে-জামাইকে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে রাবেয়ার স্বাভাবিক জীবন। মাঝে মধ্যে মারধরসহ খেতে না দেয়ার মত অমানবিক জীবন কাটাতে হতো রাবেয়াকে। তাদের সংসারে  হাফজা ও হানজালা নামের দুই সন্তান রয়েছে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক দেওয়ার অক্ষমতার কথা ভেবে রাবেয় দিনের পর দিন অনেকটা নিরবেই অত্যাচার নির্যাতন সয়ে যায়। অবশেষে কয়েকদিন আগে জামাতা কালাম ঘর নির্মাণের নামে রাবেয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। রাবেয়া টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে ঘটনার দিন রবিবার সকালে আবুল কামাল রাবেয়াকে লাঠি দিয়ে এলাপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করে। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। এক পর্যায় রাবেয়া অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে মৃত ভেবে টেনেহেচরে বাড়ির সামনে ব্রিজর কাছে ফেলে রাখে। রাবেয়ার মা পারুল বেগম বলেন, এ ঘটনার সাথে শ্বাশুরী মনোয়ারা  বেগম জড়িত রয়েছে। তার ইন্দোনে জামাতা কালাম রাবেয়াকে মারধর করেছে। এ খবর পেয়ে তিনি ও তার তার স্বামী  আলাউদ্দিন হাওলাদার  এসে ওই ব্রিজের কাছ থেকে মেয়েকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তার মেয়ের শরীরে নির্যাতনের অসংখ্য ক্ষত রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি আযম খান ফারুকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।