যৌতুক লোভী স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার আছিয়া

5

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধি ঃ আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলী গ্রামে যৌতুক লোভী স্বামী তুহিন খানের নির্মম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৫) এখন হাসপাতাল বেডে অসহ্য যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। যৌতুকের দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা না পেয়ে বুধবার রাত  থেকে বাড়িতে আটকে রেখে  লোহার রড, লাঠি দিয়ে স্বামীর দফায় দফায় পিটানোর ফলে আছিয়ার শরীরের বিভিন্ন যায়গায় কালছে দাগ হয়ে ফুলে আছে এখনো।

আমতলী উপজেলার নাচনা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়ার বাবা আব্দুল খালেক মাতুব্বর জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে আমতলী উপজেলার দক্ষিণ আমতলী গ্রামের মজনু খানের ছেলে তুহিন খানের সাথে তার মেয়ে আছিয়া বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তুহিন খানকে তার চাহিদা মত সংসারের বিভিন্ন মালামাল সহ ঘড় তোলার জন্য নগদ ৪ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। কিন্তু যেীতুক লোভী স্বামী তুহিন খান এতে তৃপ্ত না হয়ে প্রায়ই স্ত্রী আছিয়া বেগমকে তার বাবার বাড়ি থেকে আর টাকা এনে দিতে বলত। স্বামীর কথা অনুযায়ী আছিয়া তার বাবার বাড়ি থেকে মাঝে মধ্যে টাকা এনে দিত। এর মধ্যে ২০১০ সালে আছিয়ার কোল জুরে আসে জান্নাতী নামের একটি কন্যা সন্তান। কন্যা সন্তান জন্ম নেয়ার পর স্বামী তুহিন খানের যৌতুকের আকাঙ্কা আরো বেড়ে যায়। কারনে অকারনে প্রায়ই স্ত্রী আছিয়া বেগমকে মারধর করত এবং বাবার বাড়ী থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দিতে বলত। টাকা না আনলেই আছিয়ার উপর বাড়ত আরো নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না পেয়ে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে আছিয়া বেগমকে তুহিন খান একতরফা ভাবে ডাক মারফত তালাক নামা পাঠায়। এনিয়ে গ্রামে উভয় পক্ষ শালিশ বৈঠকে বসে। শালিশগন তুহিন খানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে  ওই জরিমানার টাকা স্ত্রী আছিয়ার নামে জমা রেখে উভয় পক্ষকে আপোস মিমাংসা করে দেন। আপোস মিমাংসা করার কিছু দিন যেতে না যেতেই তুহিন খান স্ত্রী আছিয়া বেগমকে দেয়া ওই ৩ লাখ টাকা ফেরৎ চান এবং বাবার বাড়ি থেকে ভিল্ডিং করার জন্য আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন। স্ত্রী আছিয়া বেগম এত টাকা তার বাবার বাড়ি থেকে এনেদিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পিতবার দুপুর পর্যন্ত ঘড়ে আটকে রেখে লোহার রড, লাঠি ও টর্চ লাইট  দিয়ে পিটিয়ে দফায় দফায় নিমর্মম ভাবে নির্যাত করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আছিয়া আটক অবস্থা থেকে পালিয়ে নাচনা পাড়া গ্রামে বাবা আব্দুল খালেক মাতুব্ববরের বাড়িতে ওঠে। বাবা আব্দূল খালেক মাতুব্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়ে আছিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করান। আমতলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, আছিয়ার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারের কারনে কালছে দাগ হয়ে আছে। এসময় কান্না জড়িত কন্ঠে আছিয়া জানায়, তার স্বামী তুহিন খান যৌতুক লোভী। তার নামে জমা রাখা ৩লাখ টাকা এবং বাবার বাড়ি থেকে আরো ৫লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। টাকা না দেয়ায় এক রাত একদিন ঘরে আটকে রেখে তাকে লোহার রড, লাঠি ও টর্চ লাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। লোহার রড, লাঠি এবং টর্চ দিয়ে আঘাত করে  আমার সারা শরীর জখম করেছে। আমি এর বিচার চাই। আমতলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার শাহীনা সুলতানা জানান, আছিয়ার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং শরীরের অনেক জায়গায় ফোলা এবং ব্যাথা ছিল। আছিয়ার মা রহিমা বেগম জানান, যৌতুকের জন্য আমার মাইয়া আছিয়ারে নিত্য জামাই তুহিন মাইর ধইর করত। এইবার এত মাইর মারছে হে এহন আর বিছানাতে উঠতে পারছে না। আমি এর বিচার চাই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান, এখন কোন অভিযোগ পাইনী অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।