রাঙ্গাবালীতে আ’লীগের দুই নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এস আলম ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃস্পতিবার গলাচিপা মোকাম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উপজেলার আমলিবাড়িয়া গ্রামের লিটন চৌকিদার বাদি হয়ে এ মামলা করেন। এদিকে, এ মামলা মিথ্যা বলে দাবি করছেন আওয়ামীলীগের ওই দুই নেতা।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলোÑরাঙ্গাবালীর কাজির হাওলা গ্রামের পারভেজ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, বাহেরচর গ্রামের নাঈম মল্লিক, সেনের হাওলা গ্রামের আকাশ হাওলাদার, আমলিবাড়িয়া গ্রামের রফিক, মোহাম্মাদ হাসান ও হোসেন।

মামলার অভিযোগ, গত ৪ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার আমলিবাড়িয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে মামলার প্রধান স্বাক্ষী ইমাম হোসেনের ওপর হামলা করে আসামীরা। এসময় ইমামকে আহত করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।

রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার রাতে মামলার বাদি লিটন চৌকিদারসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমি গুরুতর আহত হই। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই আমি রাঙ্গাবালী থানায় লিটনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করি। এ কারণে আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে পাল্টা মামলা করেছে লিটন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এস আলম বলেন, মামলায় যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে ওই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেবল উদ্দেশ্য মূলক ভাবে আমার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এবং রাঙ্গাবালী ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদারের ঘনিষ্ট লোক মামলার বাদি লিটন চৌকিদার। হুমায়ুনের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এর আগেও তিনি এক মহিলাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করিয়ে সেই মামলার তদন্তের ভাড় নিয়েছেন।

রর ১নং ওয়ার্ড হয়ে ৪নং ওয়ার্ডের জনগণের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সালাম বিনিময় করি।  এ খবর পেয়ে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লা ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ  ৭-৮ জন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করে। ভবিষ্যতে প্রচারনায় না নামার জন্য হুমকি দেয়।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, আ’লীগ মনোনিত প্রার্থীর ছেলে মাসুদ বাহিনী জাপা কর্মীদের এ বলে হুমকি দিয়েছে যে ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের পরে আ’লীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থক ছাড়া অন্য কোন দলের সমর্থক কুয়াকাটায় থাকতে পারবেনা।  যারা থাকবে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে। এক্ষেত্রে অন্য দলের সমর্থকরা কিভাবে প্রচার প্রচারণায় থেকে সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নেবে এমন পাল্টা প্রশ্ন তোলেন ওই জাপা প্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লার ছেলে মাসুদ মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যারা এমন অভিযোগ এনেছে তারা  উদ্যেশ্য প্রনোদিত হয়ে করেছে। ওইদিন জাপা প্রার্থী আনোয়ার হাওলাদার ও তার সমর্থকদের সাথে তাদের কুশাল বিনিময় হয়েছে,অভিযোগ করার মত কোন ঘটনা ঘটেনি।

আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী আঃ বারেক মোল্লা বলেন, আমার ছেলে তথা আমার কোন সমর্থক যদি কোন প্রার্থীর প্রচারনায় বাঁধা দিয়ে থাকে তাহলে আমি এর বিচার করব। আর এমন অভিযোগের প্রমাণ না মিললে কে তাদের বিচার করবে ?

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব  ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ হলে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।