রাঙ্গাবালীতে এক সংখ্যালঘু নারীর জমি দখলের অভিযোগ

0

pic-1বিশেষ প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মদদে রাঙ্গাবালীর নিজহাওলা গ্রামের মিতা রানী কু-ের ব্যবসায়ী দোকান দখল করে ভবন নির্মাণের পায়তার করেছে একই এলাকার মমতাজ বেগম নামের এক নারী। এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এ পর্যন্ত কোন কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। খবর নির্ভরযোগ্য সুত্রের।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে সুত্র জানায় উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নে খালগোড়া বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছে মিতা রানী। যার এসএ খতিয়ান নং ২৬৮, দাগ নং ২২৭ ও ২২৮। মিতা রানী কু- সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আহাসান কবির চান এবং তার ছেলে রুবেল হাওলাদারের মদদে মমতাজ বেগম তার জমি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয় মিতা রানী শুক্রবার ভবন নির্মাণে বাঁধা দিতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে রুবেল হাওলাদারসহ ৮-১০ সন্ত্রাসী তাঁকে (মিতা রানী) লাঞ্ছিত করেছে। তিনি আরো জানান তার স্বামী শারীরীক প্রতিবন্ধী। আয়ের একমাত্র অবলম্বন দোকান ঘরটি দখল হয়ে গেলে তাঁকে পথে নামতে হবে বলে দাবী করেন তিনি। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁকে সম্মত্তি বুঝিয়ে দেয়নি।

 

তবে বিষয়টিকে বানোয়াট আখ্যায়িত করে মমতাজ বেগম জানান, এই সম্পত্তি তিনি মিতা রানীর বাবা সুন্টু কু-ের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি কিভাবে ক্রয় করলেন এমন প্র¤েœর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

 

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে অভিযুক্ত রুবেল হাওলাদার জানান, মিতার বাবা ব্যাবসায়িক কাজে মমতাজের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নিতো। টাকা ফেরত না দিতে পারায় মমতাজকে তার দোকানটি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় । বিভিন্ন সময়ে শালিশ বিচারের পরে গত সপ্তাহে মমতাজ দোকান ঘরটি সংস্কারের জন্য যায়। এরপর দু’পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ সাময়িক ভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, জমিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে বিষয়টি ফয়সালা করার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আহসান কবির চানের মোবাইল ফোনে(০১৭১৩৯৫৭৪৩২) একাধীক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে উপজেলা চেয়ারম্যান অসুস্থ এবং হাসপাতালে ভর্তি বলে তার এক আত্মীয় জানান।##