রাঙ্গাবালীতে দুস্থ কয়েক জেলের ভাগ্যে জোটেনি সহায়তার চাল

2

 

কামরুল রাঙ্গাবালী বিশেষ প্রতিনিধিঃ ২২ দিন মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত দুস্থ ১০ জেলের ভাগ্যে জোটেনি সহায়তার চাল। সরকারি সহায়তার ২০ কেজি চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা। এ তথ্য চালবঞ্চিত ওইসব জেলে সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ১২ অক্টোবর থেকে চলতি মাসের ২ নভেম্বর পর্যন্ত  উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিন মা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা ওই ইউনিয়নে নিবন্ধিত ২ হাজার ২৫৫ জন দুস্থ জেলেকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা। এরই ধারাবাহিগতায় সোমবার জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ শেষ করা হয়। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিজু গাজীর গাফিলতিতে চর রুস্তুম ও খলিফারচর এলাকার ১০ দুস্থ জেলে পায়নি সহায়তার চাল। সোমবার চাল বিতরণ শেষ করা হলেও পরদিন মঙ্গলবার তিনি তার লোক দিয়ে মঙ্গলবার সকালে ওইসব জেলেদেরকে চাল গ্রহণের জন্য উপকারভোগী কার্ড দেন। একারণে ওই জেলেরা চাল পায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিজু গাজী বলেন, ‘আমি চাল বিতরণের একদিন আগেই সকলের কাছে লোক দিয়ে কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। কিন্তু দুর্যোগের (বৈরী আবহাওয়া)  কারণে কিছু জেলেকে মঙ্গলবার সকালে কার্ড পৌঁছে দিয়েছে আমার লোক। তারা যদি চাউল না পায় তাহলে আমি কি করমু? আমার কিছু করার আছে?।’

ওই ইউনিয়নের চর রুস্তুম গ্রামের জেলে কুদ্দুস হাওলাদার (৬৫) বলেন, ‘তালিকাভুক্ত জেলে সে। তার কাছে মঙ্গলবার সকালে চাল গ্রহণের জন্য কার্ড পৌঁছে দিয়েছে ইউপি সদস্য মিজু গাজী।  কিন্তু চাল বিতরণ একদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। একারণে তিনি চাল পায়নি।’ ইউনিয়নের খলিফারচর গ্রামের জেলে জাকির হোসেন (৪৭) বলেন, ‘তার কাছে মঙ্গলবার সকালে ২০ কেজি চাল গ্রহণের কার্ড পাঠিয়েছে ইউপি সদস্য মিজু গাজী। এরআগেই চাল বিতরণ হয়ে যাওয়ায় তিনি চাল পায়নি।’

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন, ‘তালিকাভুক্ত সকল জেলেদের মাঝেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। কয়েকজন জেলে চাল পায়নি, এবিষয়টি একটি মহল ষড়যন্ত্র মূলকভাবে রটাতে পারে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘ওই কয়েকজন তালিকাভুক্ত জেলে কেন চাল পেল না, এ বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।