রাঙ্গাবালীতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত

2

ডেক্স রিপোর্টঃ পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলাটি ২০১১ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানকার জনগনের চিকিৎসার জন্য কোন সু-ব্যবস্থা না থাকায় আগুনমূখা নদী পাড় হয়ে গলাচিপা ও পটুয়াখালী গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয় যা অনেক ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপুর্ণ। অন্যদিকে ভয়াবহ আগুনমূখা নদী পাড় হওয়ার মত কোন সু-ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় সময় মুমূর্ষ  রোগীদেরকে কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট কিংবা পথের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের প্রসবকালীন সময়ে তাদেরকে নিয়ে সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাঙ্গাবালীতে একদিকে কোন সরকারী হাসপাতাল নাই অন্যদিকে আগুনমূখা নদী উত্তপ্ত থাকায়

গলাচিপা ও পটুয়াখালী যেতে যেতে শতকরা ৯০ ভাগ মহিলারাই মৃত্যুমূখে পতিত হয়।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব আহসান কবির চান এর কাছে জানতে চাইলে সে জানান যে, উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই রাঙ্গাবালী উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী পদায়ন করা হয় কিন্তু কোন সুব্যবস্থা না থাকায় সে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যায়, এরপর থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রাঙ্গাবালী উপজেলায় কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। আমরা বার বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে চলছি। খুব শিঘ্রই রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা না করলে অত্র এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং অকালে অনেক জীবন হানির ঘটনা চলতেই থাকবে।

রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব সাইদুজ্জামান মামুন খান বলেন , যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা রাঙ্গাবালী উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করব। প্রয়োজনে রাঙ্গাবালী উপজেলাবাসীদেরকে নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার জন্য অনশন করব। অবিলম্বে রাঙ্গাবালীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহনের জন্য স্বাস্থ্য বিভগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।

গলাচিপায় বাবার বাড়িতে মানবিকা মজুমদারের শেষ কৃতকার্য সম্পূর্ন গলাচিপা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা  পৌরসভার ০৬ নং ওয়ার্ডে ঘরামী বাড়ির নিলিল বিশ্বাস ঘরামী এর একমাত্র মেয়ে মানবিকা মজুমদার হীরা (২৮) এর মৃত দেহ ময়না তদন্তের শেষে শুক্রবার বিকাল ৪.০০ টার সময় তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মৃত দেহ বাবার বাড়িতে নিয়ে আসলে স্বজনদের আহাজরি লক্ষ করা যায়। তাহার বাবার  পরিবারে পারিবারিক শ্বশানে তাহার স্বতকার কার্যাদী সম্পূর্ন করা হয়েছে। হিরার মা পূণিমা রাণী কান্না কন্ঠে বলেন, শিক্ষিত ছেলের কাছে আমার হীরাকে বিবাহ দিয়েছিলাম সুখে-  শান্তিতে থাকবে বলে কিন্তু আজ আমার কাছ থেকে চিরতরে বিদায় নিল। আমাকে আর মা বলে  ডাকার কেউ রইল না।

বৃহস্পতিবার রাতে কলাপাড়ায় এক গৃহ বধু রহস্য জনক ভাবে মৃত্যু হয়েছে। মানবিকা মজুমদার হীরা (২৮) এর মৃত দেহ উদ্ধার করে কলাপাড়া থানা পুলিশ এ ঘটনায় গৃহ বধুর স্বামী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গৌতম মজুমদারকে গ্রেফকার করেন। মানবিকা মজুমদার হীরা (২৮) চার বৎসরের এক পুত্র সন্তান অভিলাস মজুমদার ( গ্রহ) শিশুটি এখন গলাচিপার দাদু ও দিদিমার বাড়িতে আছেন।