রাঙ্গাবালীতে বরাদ্দের অভাবে সংস্কার হচ্ছে না আশ্রয়ণ প্রকল্প

2

কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী ঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতায় আশ্রয়ণ ছেড়ে বাসিন্দারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রমে জনশূন্য হয়ে পড়ছে আশ্রয়ণটি। এরই মধ্যে ৪০টি পরিবার আশ্রয়ন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বাকি পরিবারগুলো প্রকল্পের ঘরছাড়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। নির্মাণের দেড় দশকে কোনো ধরনের মেরামত বা সংস্কার না হওয়ায় প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০০-০১ অর্থবছরে উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা আশ্রয়ণ প্রকল্পে নয়টি ব্যারাকে ৯০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। নদী ও সাগরের ভাঙনে সর্বস্বহারা চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯০টি হতদরিদ্র পরিবারকে এ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুরুতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সাগর তীরের প্রত্যন্ত এ প্রকল্পে বসবাসকারীদের সরকারি খাসজমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হলেও তার কোনোটিই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, অ্যাঙ্গেল-পাত, নাট-স্ক্রুসহ লোহার উপকরণগুলোতে মরিচা ধরে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিমেন্টের পিলার ভেঙে পড়ছে। বর্তমানে নয়টি ব্যারাকের প্রায় সব ঘরই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রোদ, ঝড়, বৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ সইতে না পেরে গত তিন-চার বছরে ৪০টি পরিবার প্রকল্পের ঘর ছেড়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। রাঙ্গাবালীতে রয়েছে কয়েক হাজার বাস্তুহারা মানুষ। এসব মানুষের জন্য দরকার নতুন নতুন আশ্রায়ণ।

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা আশ্রয়ণের বাসিন্দা আবু সায়েম মুফতি, আবুল হোসেন, মাইনুদ্দিন পেয়াদা, রিয়াজ হাওলাদারসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণের পর থেকে ঘরগুলো কোনো ধরনের মেরামত বা সংস্কার হয়নি। এ ব্যারাকগুলোর ওপর দিয়ে সিডর, আইলাসহ দফায় দফায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। ফলে ঘরগুলোর টিনের চাল- বেড়া খুলে পড়ছে।

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, প্রকল্পের বাসিন্দারা বর্তমানে যে কতটা চরম কষ্টে দিন পার করছে, তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরগুলো সব ভেসে যায়। শীত ও গরমেও তাদের দুর্ভোগ চরম আকার নেয়। ইচ্ছা থাকলেও বরাদ্দের অভাবে মানবেতর দিন কাটানো প্রকল্পবাসীর জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তপন কুমার ঘোষ জানান, চরলতা আশ্রয়ণ প্রকল্প মেরামত ও সংস্কারের জন্য বহু আগেই কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু পুরনো কোনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য এ যাবত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যে কারণে এ আশ্রয়ণের জন্য কিছু করা যায়নি।##