লতা পোকার আক্রমন থেকে রক্ষায় দোয়া মোনাজাত পটুয়াখালীতে দিশেহারা কৃষক

9

কৃষ্ণ কর্মকার ঃ পটুয়াখালী ও বাউফলে আমন ক্ষেতে লতা পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শিগগিরই এই পোকা বিস্তার দমন না হলে চলতি আমন মৌসুমে ব্যাপক ফসল ক্ষতির আশংকা করেছেন কৃষকরা। বাজার থেকে কীটনাশক নিয়ে ক্ষেতে প্রয়োগ করার পরও মিলছে না কোন ফলাফল। অবশ্য পোকা দমনের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন। এদিকে আমন ক্ষেতে পোকার লতা পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর শরীফ বাড়ি স্টান্ড জামে মসজিদে দোয়া মোনাজাত করেছে স্থানীয় কৃষকরা।

 

উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, এ বছর পটুয়াখালীতে প্রায় ২০ হাজার ও বাউফলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অতি বর্ষনের ফলে বীজতলা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। বীজ সংকটে অনেক চাষী পরিবারের জমি অনাবাদি পড়ে আছে। যারা জমি চাষাবাদ করেছেন তারা অধিক মূল্যে বীজ ক্রয় করে রোপন করেছেন।

 

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকার চরকান্দা গ্রামের কৃষক শংকর হাওলাদার জানান, চলতি বছর তিনি দুই একর জমিতে অতিরিক্ত দামে বীজ কিনে চাষাবাদ করেছেন। এর পড় যদি ধানে লতা পোকা আক্রমন করে তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা ওই গ্রামের জামাল, আফজাল, সুকুরঞ্জনসহ প্রায় আর্ধশত কৃষকের।

 

 

সরেজমিন মদনপুরা ইউনিয়েনের মাঝপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, লতা পেকার আক্রমনে আমন ধানের পাতা বিবর্ন হয়ে গেছে। পোকার আক্রমন ঠেকাতে কৃষকরা ব্যাস্ত হয়ে পরেছেন। ওই গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ খান বলেন, তিনি এ বছর ১শ’৫০ শতাংশ জমিতে আমন চাষ করেছেন। তার এই জমি চাষ করতে এক কড়া বা তিন শতাংশ জমি চাষ, বীজ রোপন ও কীটনাশকসহ ৪শ টাকা করে খরচ হয়েছে। এখন তার ক্ষেতে লতা পোকা ও পর্দা পোকা আক্রমন করায় তিনি দিশেহারা পরেছেন। এই পোকার আক্রমন ঠেকাতে তিনি এসিমিক্স নামে একটি ওষুধ ক্রয় করে পনিতে মিশিয়ে মেশিনের সাহায্যে ক্ষেতে ছিটাচ্ছেন। একই গ্রামের কালাম গাজী বলেন, তিনি এ বছর ৩শ’ শতাংশ জমিতে আমন চাষ করেছেন। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমির বীজ তিনি ৪শ’ টাকা কেজি ধরে বাইরে থেকে ক্রয় করেছেন। তাই এবছর আমন চাষ করতে তার খরচ হয়ে বেশি। মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে তিনি আমন চাষ করেছেন। তার উপর ক্ষেতে পোকার আক্রমন করায় হতাশ হয়ে পরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ অবস্থায় পরামর্শের জন্য কৃষকরা কৃষি অধিদফতরের ব্লোক সুপার ভাইজার বা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা পাচ্ছেনা। তারা এসে কৃষকদের খোঁজ খবরও নিচ্ছেননা।

 

কৃষকদের অভিযোগ অস্বিকার করে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন জানান, সম্প্রতী বৃষ্টি ও আকাশ মেঘলা থাকার কারনে এই পোকার আক্রমনটা বেড়েছে। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে তারা কিটনাশকের সঠিক ব্যাবহার, পোকা দমনের প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ সার্বিক ব্যা¦বস্থা নিতে পাড়ে।##