লাঠিয়াল ও ভূমিদস্যু আতঙ্ক চোখে ঘুম নেই গলাচিপার হাজার হাজার কৃষকের

2

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা ঃ গলাচিপা উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস, চর কপালবেড়া ও চর বড় শিবা মৌজার সহশ্রাধিক কৃষকের চোখে ঘুম নেই। ধান পাকার মৌসুম যতই ঘনিয়ে আসছে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে এলেই ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার লাঠিয়ালরা দরিদ্র কৃষকের একমাত্র উৎপাদিত ফসল ধান লুট করে নিয়ে যায়। ধান কাটা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ওই এলাকার লাঠিয়াল ভূমিদস্যুরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে দরিদ্র কৃষককেরা উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলার পূর্ব সীমানার গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল ও বরিশাল সদর জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সীমানা বিরোধ রয়েছে। গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চর বিশ্বাস মৌজাটির পূর্বে ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার মুজিব নগর ইউনিয়নটি অবস্থিত। চর ফ্যাশনের ওই ইউনিয়নের সাথে গলাচিপা উপজেলার উত্তর চর বিশ্বাস, চর কপালবেড়া ও চর শিবা মৌজার সীমানা বিরোধ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ভোলা জেলার কিছু ভূমিদস্যুরা উচ্চ পর্যায়ের ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আন্ত:জেলা সীমানা নির্ধারনের জন্য ১৯৪০-১৯৪২ সালে আরএস ম্যাপ লাইন অনুসরণ না করে মনগড়া বুড়াগৌরঙ্গ নদীর দোন দিয়ে সীমানা নির্ধারনের দাবী করে আসছে। তাছাড়া ২০০৫ সালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের সভায় আন্ত:জেলা সীমানা বিরোধ নিস্পত্তি করার জন্য আর এস অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া স্বাধীনতার আগ থেকে ওই এলাকা উত্তর চর বিশ্বাস মৌজার নামে ম্যাপ অনুমোদন করে ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভোলার ভূমিদস্যুরা উত্তর চর বিশ্বাসের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত কৃষকদের ৩০/৩৫ ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ওই থেকেই প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। বন্দোবস্ত পাওয়া কৃষক কাশেম ফকির জানান, ২০০১ সালে আমি উত্তর চর বিশ্বাস মৌজায় দেড় একর জমি বন্দোবস্ত পাই। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুম এলেই চর ফ্যাশনের ভূমিদস্যু নবী মেম্বার ও হারুন দেশপালির নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের উৎপাদিত ধানে কেটে নিয়ে যায়। এ বছরও তারা ধান লুট করার পায়তারা চালাচ্ছে। চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.রাজা মিয়া বলেন, ভোলা জেলার ভূমিদস্যুরা অযৌক্তিক ভাবে আমাদের উপজেলার জমি দাবী করে আমাদের এলাকার কৃষকের ধান লুট করে নিয়ে যায়। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুব আলম জানান, বুড়াগৌরঙ্গ নদীর দোনের আদৌ কোন অস্তিত্ব নাই। তাছাড়া সারা দেশে আরএস লাইন অনুসরণ করেই আন্ত: জেলা সীমানা নির্ধারণ হয়, তাই আর এস লাইন অনুসরণ করে সীমানা নির্ধারণ করাই যৌক্তিক।

 

বিষয়ে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন মতবর জানান, পটুয়াখালী ও ভোলার সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আগামী ৪ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে আন্তঃসীমানা বিরোধ নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় সকল বিরোধ নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

#