শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ, অনিয়মের অভিযোগ

4

অতুল পাল, বিশেষ প্রতিনিধি: বাউফলের ২৫৪ টি প্রাইমারি স্কুল, এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক সংলগ্ন প্রাইমারি স্কুলের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের উপ-বৃত্তির টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগে দাশপাড়া খেজুরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাউফলে অবস্থান করা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত স্কুলটি পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে জানা গেছে, গত বুধবার বেলা ১১টা থেকে ২৫৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যান। দু’একটি ব্যতিত সকল প্রতিষ্ঠানেই ঠিকঠাকভাবে টাকা বিতরণ করা হলেও দাশপাড়া খেজুরবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের কাছে ব্যাংক কর্মকর্তা তালিকাসহ প্রত্যয়ন পত্র চাইলে তিনি তালিকা না দিয়ে স্কুল ত্যাগ করে চলে যান। পরে ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক দিলিপ কুমার শীল ৪ কিস্তির মধ্যে ২ কিস্তির তালিকা দেন। তালিকা অনুযায়ি শিক্ষার্থীদের নাম ডাকা হলে অনেক শিক্ষার্থীই উপস্থিত হতে পারেনি। অপরদিকে সেসব শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছে কার্ড চাইলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দিলিপ কুমারের স্বাক্ষর করা স্লিপ দেখান। অভিযোগ রয়েছে, ওই স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের থেকে প্রতি স্লিপে ৩০ থেকে ৫০ টাকা হারে আদায় করেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা কার্ড ব্যতিত টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছবি ও অভিভাবকের স্বাক্ষরবিহীন কিছু কার্ড জমা দেন। ওই কার্ডে বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। কার্ডে সন্দেহ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা বিতরণ বন্ধ করে দেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, উপবৃত্তি তালিকায় ২৮০ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও স্কুলের সর্বাধিক ১০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ভূয়া শিক্ষার্থীদের নাম দিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলণ করে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যরা ভাগভাটোয়ারা করে নেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন থেকেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রঙ্গলাল রায় এবং সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ভূঁয়া তালিকা দিয়ে টাকা উত্তোলনে সহায়তা করে আসছেন। এভাবে বাউফলের কিছু কিছু প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ওই ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা অফিসার  মাইনুল ইসলাম বলেন, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের ছবি নেই এমন কোন কার্ডে তিনি স্বাক্ষর করেননি।  উপজেলা শিক্ষা অফিসার রঙ্গলাল রায় বলেন, আমি নিজে স্বাক্ষর করিনি। ফেক্সিবেল মারতে বলছি, যদি কোন শিক্ষক কিংবা কোন কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বাউফলে অবস্থান করা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) মো. নবী হোসেন তালুকদার বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত স্কুলটি পরিদর্শন করে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে দ্রুত প্রকৃত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।