শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনকারী গৃহবধূ অনিকে গ্রেফতারের দাবীতে মানব বন্ধন

9

 

কে এম সোহেল আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীর কালিপুরা গ্রামের মৃত্য আব্বাস মেল্লার মেয়ে ১১ বছল বয়সী গৃহকর্মী জাহানারাকে নির্যাতনকারী ঢাকার সেনানিবাসে বসবাসরত জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত প্রবাসী মেজর শরীফ আল মারুফের স্ত্রী  গৃহবধূ অনিকে গ্রেফতার এবং বিচারের দাবীতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুকুয়ার আজিমপুর বাজারে ঘন্টাব্যাপী এক মানব বন্ধন কর্মসচী পালন করে স্থানীয় জনগন ও স্কুল শিক্ষার্থীরা।

নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী জাহানারার চাচা মো: আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঘন্টাব্যাপী মানব বন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন মো: রফিক গাজী, মো: আলী আকন, কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিধ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিলা আকতার, আমতলী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী মো: সবুজ ও চাচী জাহানারা বেগম। ব্ক্তারা অবিলম্বে শিশু গ্রহকর্মী জাহানারার নির্যাতনকারী মেজর মারুফের স্ত্রী অনিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে  বিচারের দাবী জানান। মানব বন্ধন কর্মসূচীতে স্থানীয় জনগন ও কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মিলে প্রায় ২ শথাধিক মানুষ অংশগ্রহন করে।

নির্যাতিত জাহানারার মা সাফিয়া বেগম জানান, পিতৃহীন এবং অভাবী জাহানারাকে ৪ মাস আগে কালিপুরা গ্রামের সোহরাব তালূকদারের স্ত্রী তাছলিম বেগম তার বোনের বাসা পটুয়াখালীতে মাসিক ৫শ’ টাকা বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। কিন্তু জাহানারাকে সেখানে কাজ না দিয়ে তার বোনের মেয়ে মেজর মারুফের স্ত্রী অনির ঢাকার সেনানিবাসের বাসায় কাজ করতে দেয়। অনির স্বামী মেজর মারুফ জাতিসংঘে কর্মরত প্রবাসী। দিনের বেলায় গৃহকর্মী জাহানারাকে বাসার কাপর চোপর ধোয়া  এবং নাস্তা তৈরীসহ সংসারের নানা কাজ  করতে হত। এবং সন্ধ্যা থেকে রাত  ৩টা পর্যন্ত গৃহকত্রী অনির হাত পা টিপে দিতে হত। গত ২৬ অক্টোবর বুধবার সকালে  ঠিক সময়ে নাস্তা দিতে না পারায় গৃহবধূ অনি জাহানারাকে মারধর করে এবং দেয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে আঘাত করে। কাজে সামান্য ক্রুটি বিচ্যুতির জন্য প্রায়ই এভাবে মারধর করত বলেও জানান তিনি। ঘটনার দিন রাত ১টার দিকে গৃহকত্রী অনি জাহানারাকে তার পা টিপে দিতে বলে। পা টিপে দিতে বিলম্ব হওয়ায় গৃহবধু অনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে চর থাপ্পর  মারে এক পর্যায়ে গ্যাসের চুলায় ক্ষুন্তি গরম করে জাহানারার বা হাতের কনুইর উপরে ছ্যাঁকা দিয়ে পুরে দেয়। এসময় জাহানারা ডাক চিৎকার দিলে অনি তাকে ঘরে  থাকা কাঠের চেরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এভাবে ৫দিন ধরে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর  জাহানারা বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে  রবিবার বিকেলে তাকে পটুয়াখালীগামী সুন্দরবন লঞ্চে তুলে দেয়। সোমবার ৩১ সেপ্টম্বর সকালে গৃহকর্মী জাহানার পটুয়াখালী পৌছার পর  দুপুর ১২টার দিকে অনির বাবার বাসা থেকে জাহানারার মা সাফিয়া বেগমকে মোবাইল ফোনে  তার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। মেয়েকে আনতে গিয়ে তার মেয়ের এ অবস্থা দেখে  মা সাফিয়া বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং আমতলী এনে ১ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জাহানারাকে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করেন। জাহানারাকে উন্নত চিকিৎসারও প্রয়োজন বলে তার মা জানান।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাদল জানান, এবিষয়ে এখনো আমাদেরও কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।