শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতুর উদ্বোধন

2

pic-1

ডেস্ক রিপোর্ট : অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কের শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সেতু দু’টির উদ্বোধন করেছেন। পটুয়াখালী জেলাপ্রশাসকের দরবার হলে হলে আয়োজিত এ ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী এর সভাপতিত্বে  বক্তব্য রাখেন চীপ হুইপ আ স ম ফিরোজ এমপি, পটুয়াখালী  ১ আসনের সংসদ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার,পটুয়াখালী-৩ আসনের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এমপি, ৪ আসনের মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাড . মোঃ শাহজাহান মিয়া। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মোঃ আফজাল হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশারফ হোসেনসহ  বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন, জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরে সেতু দুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।

দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের স্বার্থে ২০১২সালের ২৫ ফেব্রয়ারি পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আন্ধারমানিক নদীর উপর শেখ কামাল, সোনাতলা নদীর উপর শেখ জামাল ও খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর শেখ রাসেল সেতু নির্মান প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় সেতু নির্মান শেষে ২০১৫ সালের ২০ আগষ্ট উদ্বোধনের পরে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়  খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতুটি। আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর উপরে নির্মিত শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতু দুটির নির্মান কাজ গত জানুয়ারি মাসে শেষ হওয়ায় সকল জল্পনা কল্পনা কাটিয়ে  বৃহস্পতিবার সেতু দুটি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের।

কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের  সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীতে খেয়া ও  ফেরি পারাপারে চালকদের অদক্ষতা এবং লক্কর ঝক্কর মার্কা ফেরি- খেয়া নৌকা ও বেহাল সড়কের কারনে একাধিক দূর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছে অনেক যাত্রী। সর্বশেষ গতমাসে  খেয়া ডুবে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সেতু দুটি উদ্বোধনের পরে খুলে দেয়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করেন যাত্রীরা।

 

কলাপাড়ার আন্ধার মানিক নদীর ওপর নির্মিত প্রি-ষ্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডারের ১৯টি স্প্যানের ওপর নির্মিত ৮৯৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থ শেখ কামাল সেতুটির দুই দিকে রয়েছে ৬শ ৯ মিটার সংযোগ সড়ক। সেতুটি নির্মানে ব্যায় হয় ৬৫ কোটি ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা।

 

অপরদিকে কলাপাড়ার সোনাতলা নদীর ওপর নির্মিত প্রি-ষ্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডারের ১০টি স্প্যানের ওপর নির্মিত ৪৮৩.৭১৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থ শেখ জামাল সেতুটির দুই দিকে রয়েছে ৪শ৭৪ মিটার সংযোগ সড়ক।  সেতুটি নির্মানে ব্যায় হয় ৪৩.৪৩ কোটি টাকা।

সেতু দুটি উদ্বোধনের পরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় আনন্দের জোয়ার বইছে দক্ষিনাঞ্চলবাসির মধ্যে। সেতু তিনটিকে ঘিরে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনে বেজায় খুশী পর্যটকরাও।