শেষ মুহুর্তে  পূজা মন্ডপে চলছে  রং ও সাজগোজের কাজ

2

জাহাঙ্গীর হোসেনঃ আসন্ন শারদীয় দুর্গাৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর প্রতিমা শিল্পীরা। এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরী হয়েছে পুঁজা মন্ডবগুলোতে। দেবী নির্মান শেষে এখন চলছে রং তুলি আর ধোঁয়া মোছা এবং রং ও সাজগোজের  কাজ। থেমে নেই আলোক স্বজ্জার কাজও। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জেলা পটুয়াখালী। কোন সময়ই তা নষ্ট হয়নি । ফলে এখানের সনাতন ধর্মালম্বীরা অত্যন্ত জাঁকজমক আর নির্বিঘেœ পালন করে আসছেন তাদের প্রধান উৎসব। এবারও এর ব্যতিক্রম হবেনা বলে মনে করেন আয়োজকরা। এদিকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষে রং তুলিতে ব্যস্ত কারিগররা। এবার মা দুর্গা সবার মঙ্গল কামনায় আর্শীবাদ নিয়ে আসছেন বলেও জানান তারা।যে যার মত করে  কেনাকাটার কাজও শেষ করেছেন ।পুরোনোকে ধুঁয়ে মুঁছে নতুনকে বরন করতে এখন মাহেন্দ্রক্ষন অপেক্ষা। কখন আসছেন দেবী দুর্গা  । সেন্টারপাড়া হিন্দু সমাজ পূজা মন্ডপে রং করতে রাজবাড়ি থেকে আসা কারিগর পরিমল পাল জানান এবছর বাজার মূল্যে আমাদের পারিশ্রমিক তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। কিন্তু পুরান ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো কাজ করে যাচ্ছি।  খোকন পাল জানান এবছর আমরা বরিশাল, পটুযাখালী এবং ভোলায় জেলায় মোট ৯টি প্রতিমা বানিয়েছি। আমাদের কর্মচারী নিয়ে থাকা খাওয়া খরচ অনেক পড়ে যায়। গত বছরও যা আমরা পারিশ্রমিক পেয়েছি এবারও তাই। কিন্তু বাজরের তুলনায় অনেক কম।

জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী  জানান এবছর সকল পূজা মন্ডপে সকলে মিলে পূজার উদসব পাল করতে পারে  তার জন্য আইন শৃংখলাসহ সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়ে। এবছর সরকারি ভাবে প্রতি পূজা মন্ডপের জন্য ৫০০কেজি চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

জেলা পূজা কমিটির সভাপতি এ্যাড কমল দত্ত জানান,জেলা প্রশাসকের দরবার হলের সকল উপজেলার পূজা মন্ডপের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়ে সভা করা হয়েছে। সভায় স্বেচ্ছাসেবক  কমিটি গঠন করে তাদেরকে আইডিকার্ড দিয়ে মন্ডপে থাকার জন্য বলা হয়েছে এবং প্রতি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বলা হয়েছে।

সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সাহেব আলী পাঠান বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এবার বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।  এ জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সাদা পোশাকধারী পুলিশের একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়েছে।

এবারে পটুয়াখালী জেলার ৮টি উপজেলায়  ১৭৭ টি মন্ডপে দুর্গা পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। পটুয়াখালী পৌরসভার ৬টি নিয়ে  সদর উপজেলায় ২২টি, বাউফলে ৬৪টি,মির্জাগঞ্জে ১৭টি,দুমকিতে ৯টি,গলাচিপায় ২৬টি,দশমিনায় ১৬টি,কলাপাড়ায় ১৫টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮টি। সবচেয়ে বাউফলে বেশি সংখ্যক মন্ডপে দুর্গা পূজা হচ্ছে।