সরকারি কর্মচারিকে মারধর তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আ’লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা গ্রহণ

0

 

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ হাসপাতালের অফিস সহকারি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান পিন্টুকে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করার অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো: মনিরুজ্জামান মিন্টু এবং তার ছোট ভাই তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করেছে তালতলী থানা। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী) রাতে এ মামলা গ্রহণ করা হয়। রাতেই মামলার ৫ নম্বর আসামী আলাল এবং ৬ নম্বর আসামী বেল্লালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছে- মনিরুজ্জামান মিন্টুর ছোট ভাই তারিকুজ্জামান তারেক, মেহেদী হাসান তপু, ফারুক, শামীম পাটোয়ারী, লোকমান ও শহিদুল। এদের সকলের বাড়ি তালতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

মাহমুদুল হাসান পিন্টু তালতলী উপজেলা ছাত্রলীগের দুইবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগের অফিস সহকারি হিসেবে চাকুরী হওয়ার পর ছাত্রলীগ থেকে সরে যান।

মাহমুদুল হাসান পিন্টু অভিযোগ করেন, গত ডিসেম্বরে তালতলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে অবৈধভাবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু ৪টি ঘর নির্মান শুরু করেন। তার মধ্যে আবু বকর নামের এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে একটি ঘর বরাদ্দ দেন। সেখানে বর্তমানে হোটেল রয়েছে। বাকী ৩টি ঘর নির্মান ও বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ৪ লাখ করে টাকা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন মাহমুদুল হাসান পিন্টু সেখানে ঘর নির্মানে বাধা দেয়। এ ঘটনার পর পিন্টুকে ষড়যন্ত্র করে তালতলী হাসপাতাল থেকে বরিশাল মেহেন্দীগঞ্জে বদলী করে দেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু ঘর তুলতে না পেরে পরবর্তীতে পিন্টুর কাছে ৩ টি দোকান ঘর বাবদ ১২ লাখ টাকা দাবী করে এবং বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায়। এরপর মাহমুদুল হাসান পিন্টু ছুটিতে তালতলী গেলে গত ২৫ ডিসেম্বের’১৭ ইং তারিখ বিকেল ৫টার দিকে মিন্টু তার ভাই তারেক ও তনুসহ দলবল নিয়ে পিন্টুকে পিটিয়ে দুই পা এবং এক হাত ভেঙ্গে দেয়। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তার পিস্তল বের করে পিন্টুর মুখে ঢুকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে। বর্তমানে পিন্টু পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে।

পিন্টু আরও বলেন, মারধর ও চাঁদাবাজীর ঘটনায় প্রথমে থানায় মামলা না নেওয়ায় মাহমুদুল হাসানের পক্ষে ব্যারিষ্টার মাহবুবুর রহমানের রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ ২ ফেব্রুয়ারী রাতে মামলা নেয় এবং ওই দিনই দুই আসামীকে গ্রেফতার করে।

মামলায় অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, দলীয় কোন্দল এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার ও সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জোমাদ্দার ষড়যন্ত্র মূলকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তাদের মামলায় আসামী করেছে। তাদের দাবি এ ঘটনার সাথে কোন ভাবেই তারা জড়িত নেই।

এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: রেজবী-উল কবির সাংবাদিকদের বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নন, যে কোন সন্ত্রাসীরই বিচার হওয়া উচিৎ। আওয়ামীলীগ কোন সন্ত্রাসীর দায়দায়িত্ব বহন করবে না।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় বলেন, মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার মূলহোতা আলাল ও বেল্লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জানান।