সরকারি হাটের জায়গা দখল প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের হাট বর্জন

2

আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া হাটের সরকারি জায়গা স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাতে ১০-১২টি ঘর তুলে দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে সাপ্তাহিক হাটে আসা ওই বাজারের ভাসমান দোকান ব্যবসায়ীরা বসার কোন স্থান না পেয়ে তাৎক্ষনিক তারা বৈঠক করে কলাগাছিয়া বাজার বর্জনের ঘোষনা দিয়ে পাশ্ববর্তী বিঘাই ইউনিয়নের মরিচ বুনিয়া নামক স্থানে বসে বেচাকেনা করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, কলাগাছিয়া বাজারের প্রভাবশালী হানিফ বিশ্বাস, জাফর মৃধা, রফিক বিশ্বাস, আলম ডাক্তার, জহিরুল মুছল্লী, রফিক প্যাদা, আলতাফ মৃধা ও রুবেল হাওলাদার  বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কলাগাছিয়া হাটের অধিকাংশ জায়গা ঘর তুলে দখল করে নেন। এর আগেও এভাবে তারা ঘর তুলে জায়গা দখল করেছে। সর্বশেষ দখলের পর হাটটিতে অস্থায়ী ভাবে বসার জন্য ভাসমান ব্যবসায়ীদের কোন জায়গা অবশিষ্ট ছিল না। শুক্রবার সকালে প্রায় ২শ’ ভাসমান ব্যবসায়ীরা  সাপ্তাহিক হাটে এসে দেখেন তাদের বসার কোন জায়গা নেই। তাৎক্ষনিক ভাসমান দোকান মালিক সমিতির নেতারা বৈঠক করে হাট বর্জনের ঘোষনা দেন এবং যতক্ষন পর্যন্ত হাটের জায়গা দখল মুক্ত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত পাশ্ববর্তী মরিচবুনিয়া নামক স্থানে হাট বসানোর ঘোষনা দেন। ঘোষনা অনুযায়ী তারা ওই স্থানে হাট করেন। ভাসমান দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস ছোবাহান তালুকদার বলেন, হাটের সম্পূর্ন জায়গা দখল হয়ে গেছে। হাটের দিন আমরা প্রায় ২শ’ ভাসমান দোকান এখানে বসে প্রতি শুক্রবার ব্যবসা করি। বাজারের সকল জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নেয়ায় আমাদের বসার আর কোন জায়গা অবশিষ্ট নেই। তাই আমরা হাট বর্জনের ঘোষনা দিয়ে পাশ্ববর্তী মরিচ বুনিয়া নামক স্থানে হাট বসিয়ে বেচা কেনা করছি। দখল হয়ে যাওয়া সরকারী জায়গা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের নিকট আমরা জোর দাবী জানাই। দখলদার হানিফ বিশ্বাস জানান, আমি কোন সরকারী জায়গা দখল করিনি। তবে তিনি কয়েক জনের দখলের কথা স্বীকার করেন।  গুলিশাখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: শাহআলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হাটের জায়গায় ১০-১২টি ঘর তুলে দখল করে নেয়। খবর পেয়ে শুক্রবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এগুলো উচ্ছেদ করে দেই।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা দখলের খবর পেয়ে সেখানে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোক পাঠানো হয়েছে এবং জায়গা দখল মুক্ত করা হয়েছে।