সার্টফিকেট জালিয়াতী মামলা আমতলীতে সাবেক অধ্যক্ষ জেল হাজতে

4

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী বকুলনেছা ডিগ্রি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ ফোরকান মিয়াকে  সার্টফিকেট জালিয়াতীর  অভিযোগের মামলায় মঙ্গলবার  আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট  আদালত করাগারে  পাঠিয়েছে । ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  মোঃ মজিবুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৮ জুলাই   মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্রে  জানা গেছে,  মোঃ  ফোরকান মিয়া ১৯৯২ সালে আমতলী ডিগ্রি কলেজ  থেকে বিএ পাশের সার্টিফিকেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ পাশের সার্টিফিকেট  দেখিয়ে বকুলনেছা মহিলা কলেজে ১৯৯৯ সালে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক হিসাবে চাকরিতে  যোগদান করেন। ২০১০ সালে ওই কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ  নেয়।

এদিকে কলেজ শিক্ষক  মোঃ মজিবুর রহমান  মোঃ ফোরকান মিয়ার বিএ পাশ সার্টিফিকেট জাল ও ভুয়া দাবি করে ব্যাবস্থাপনা কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের  প্রেক্ষিতে ব্যাবস্থাপনা কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপরে তার সার্টিফিকেট গুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্র্রব কুমার সরকারকে ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব প্রদান করেন। প্রনব কুমার সরকার আমতলী ডিগ্রি কলেজে তার সার্টিফিকেট তদন্ত করতে গিয়ে  দেখতে পায় (১৯৯২ সালের পরীক্ষা) ১৯৯৩ সনে অনুষ্ঠিতব্য ডিগ্রি পরীক্ষায়  মোঃ  ফোরকান মিয়া অংশ গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের  টেবুলেশন শিটে তার  রোল নং- ৬৫৮,  রেজি নং- ৫৩৭৫০, শিক্ষা বর্ষ- ১৯৯০-১৯৯১। ওই  টেবুলেশন শীটের ফলাফল স্থানের জায়গাটি খালি। মন্তব্য কলামে তদন্ত স্থগিত। আতলী ডিগ্রী কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ  মোঃ মজিবুর রহমান ২০১৩ সালের ৩ অক্টোবর এই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র  দেয়  যে  মোঃ  ফোরকান মিয়া ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত বিএ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত  টেবুলেশন শিটের মন্তব্য কলামে তদন্ত স্থগিত আছে এবং বাংলা, ইসলামের ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে নম্বরের ঘর গুলি খালি দেখা যায়। এরপরে ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তার সার্টিফিকেট পূর্ণাঙ্গ যাচাই বাছাইয়ের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরে আবেদন করেন। বিশ্ব বিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমান্দ্রি শেখর চক্রবর্তী আবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে স্মারকনং-০০০১৪৯/ পঃনিঃ তারিখ ৩১/১০/১৩ জানান মোঃ ফোরকান মিয়ার বিএ পাশ সার্টিফিকেঁটি জাল। তার নামে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস থেকে সনদটি ইস্যু করা হয়নি। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে মোঃ ফোরকান মিয়া স্বেচ্ছায় কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এদিকে মোঃ ফোরকান মিয়ার বিরুদ্ধ গত ২২ জুলাই ব্যাবস্থাপনা কমিটি জাল সার্টিফিকেটের জন্য প্রতারনার মামলা করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের আদালতে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান বাদী হয়ে দঃ বিঃ ৪৬৮/৪৭১/৪২০/৪৭৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক বৈজয়ন্ত বিশ্বাস আসামি মোঃ  ফোরকান মিয়াকে আগামী ২৩ আগষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলে। ২৩ আগষ্ট  অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে   বিজ্ঞ বিচারক  তা না মঞ্জুর করে  তাকে কারাগারে প্রেরন করার আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত  মোঃ  ফোরকান মিয়া বলেন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি  কোন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি  নেই নাই।