সেলুনে কাজ করে রোজগারের টাকা দিয়ে লেখা পড়া করে  জিপিএ-৫ পেয়েছে শুবদেব

2

 

আমতলী প্রতিনিধি ঃ অদম্য মেধাবী শুবদেব। বাবার সাথে সেলুনে কাজ করে  রোজগারের টাকা দিয়ে লেখা পড়া করে এবছর কারিগরি শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাবের তারনায় ভবিষ্যতে সে তার লেখা পড়া চালিয়ে যেতে পারবে কিনা  সে দুশ্চিন্তাই এখন তার দিন কাটে।

বাবা অমল চন্দ্র শীল পেশায় একজন নরসুন্দর। আমতলী সদর রোডের জামে মসজিদের সামনে ছোট্ট একটি সেলুন দিয়ে তাতে নরসুন্দরের কাজ করে। থাকেন আমতলী পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের  বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ঢালের একটি ঝুপরি ঘরে। মা শেফালী রানী গৃহিনী। অভাবের তারনায় মাঝে মধ্যে অন্যের কাজও করে। অমলের দুই ছেলে শুবদেব আর বাসুদেব। শুবদেব এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আমতলী একেপাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কারিগরি শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছোট ছেলে বাসুদেব আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।  বাবা মায়ের দুজনের যে আয় হয় তা দ্বারা সংসার চলে না তার উপর আবার দুই ছেলের লেখা পড়ার খরচ বহন করা  তাদের পক্ষে  মোটেই সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়ে মেধাবী শুবদেব লেখা পড়ার খরচ যোগানোর জন্য কারো কাছে হাত না পেতে  বাবার সাথে তার সেলুনে কাজ করে যে টাকা আয় করত তা দিয়ে নিজের বই খাতা কলম কিনে লেখা পড়া করেছে। এ ভাবে সে সপ্তম শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত নিজের লেখা পড়ার খরচ যোগাড় করেছে। এখন উচ্চতর ক্লাশে ভর্তির জন্য যে টাকার প্রয়োজন সে টাকা তার পরিবারের কাছে নেই। তার পরও রয়েছে বই খাতা কলম সহ কলেজের যাবতীয় খরচ। অভাবের তারনায় ভবিষ্যতে আর লেখা পড়া করতে পারবে কিনা সেই দুশ্চিতাই বার বার তারা করে মেধাবী শুবদেবকে। সুদেবের বাবা অমল চন্দ্র শীল বলেন, মুই গরীব মানুষ সেলুনে কাম কইরা যে টাহা পাই হেই টাহা দিয়া মোর সংসার চলে না কি দিয়া পোলাডারে লেহা পড়া করামু। শুবদেব বলেন, আমি লেখা পড়া করে ভবিষ্যতে বড় একজন প্রকৌশলী হতে চাই। কিন্ত অভাবের তারনায় আমার সে স্বপ্ন পূরন হবে কিনা জানি না। আমি সকলের সহযোগিতা চাই। আমতলী একে পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, শুবদেব অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তার বাবা দরিদ্র হওয়ায় আমরা শুবদেবকে স্কুল থেকে লেখা পড়ার বিষয়ে অনেক সহযোগিতা করেছি। সহযোগিতা না করলে হয়তো তার লেখা পড়া করা সম্ভব হত না। আশা করি ভবিষ্যতে লেখা পড়ার জন্য সবাই ওর প্রতি সহৃদয়বান হবে।