সোনারচরের শুঁটকি পল্লীর জেলেদের হতাশায় দিন কাটছে

5
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

নাসির উদ্দিন, গলাচিপা বিশেষ প্রতিনিধিঃ হতাশায় ভুগছেন পটুয়াখালীর রাংগাবালী উপজেলার সোনারচরের শুঁটকি পল্লীর জেলে পরিবারগুলোর। উপকূলে মাছ ধরা ও শুঁটকি তৈরির মৌসুমে মৎস্যজীবীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য নেই। দেশ-বিদেশে ভালো মানের শুঁটকি মাছের চাহিদা বেড়েই চলছে। অথচ দিন দিন উৎপাদন কমে এ শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। উন্নত প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহজ ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের পাশাপাশি বেসরকারী অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শুঁটকি শিল্পে বিনিয়োগের অনীহায় উপজেলার সোনারচরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে শুঁটকি উৎপাদন ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে।

উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান শুঁটকি উৎপাদনকারী আশারচর, জাহাজ মারা, চরমোন্তাজ, চর বিশ্বাস, সোনারচরসহ বহু বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বছরের ৬ মাস সনাতন পদ্ধতিতে মাছ কেটে পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি ফেলে লবণ মেখে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি মাছ তৈরি করে। বছরের বাকিটা সময় এ পেশায় সংশ্লি¬ষ্টদের বেকার জীবনযাপন করতে হয়।

এক সময় শুঁটকি শিল্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত মফিজ হাওলাদার জানান, মাত্র ৬ মাসের অর্জিত অর্থে, বছর পাঁচেক আগেও তাদের সংসার ভালোভাবেই চলত কিন্তু  দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই এখন শুঁটকি উৎপাদন ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সোনারচরের শুঁটকি ব্যবসায়ী লিয়াকত মৃধা জানান, বছরের কার্ত্তিক থেকে চৈত্র, এ ৬ মাস উপকূলীয় এলাকায় উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোতে জেলেরা নদী এবং সাগর থেকে নানা প্রজাতির মাছ আহরণ করে। প্রাকৃতিক উপায়ে (মাচা) বাঁশ দিয়ে খুঁটি ও আড়া তৈরি করে দিনের পর দিন লবণযুক্ত মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করে। এ কাজে এলাকার জেলেদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা।

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (রাংগাবালীর দ্বায়িত্বে) অঞ্জন বিশ্বাস জানান, অত্র উপজেলায় সঠিকভাবে শুঁটকি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকার ফলে কিছু দিন মজুদ রাখার পরই এর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় জেলেরা পানির দরে শুঁটকি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ কারণে প্রতিবছরই শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তারা লোকসানের মুখে পড়ছে।