সোনালি স্বপ্নের দ্বার  খোলার অপেক্ষায় পায়রা সমুদ্র বন্দর

4

জাহাঙ্গীর হোসেন ঃ সোনালি স্বপ্নের দ্বার  খোলার অপেক্ষায়  দেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর পায়রার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের যে কোন দিন চালু হতে পারে বন্দরটি। এ জন্য দ্রুত গতিতে চলছে এর অবকাঠামো নির্মান কাজ। চট্টগ্রাম বন্দরের  চেয়ে বাড়তি সুবিধা আর নানা প্রণোদনা থাকায় প্রধান বানিজ্যিক  কেন্দ্রস্থল হবে এটি। আর অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগ হবে এক নতুন মাত্রা। ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে এই ভাটি অঞ্চলের মানুষের।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পায়রা সমুদ্র বন্দরের নাম ফলক উম্মোচন করেন। এর পরই তড়িৎ গতিতে শুরু বন্দরটির নির্মান কাজ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রামনাবাদ চ্যানেলে ১৬ একর জমিতে শুরু হয়  এর মহাকর্মযজ্ঞ। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ১শ২৮  কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এখানে। ইতিমধ্যে নির্মান করা হয়েছে নিরাপত্তা ভবন। স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক পন্টুন, সেতু ও  ক্রেন।  নৌ-পথের বিভিন্ন স্পটে ড্রেজিং করতে বসানো হয়েছে হাইস্পিড,পাইলট ও টাগবোট। বয়া,লেয়িং,সার্ভে ভ্যাসেল, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজও চলছে খুব দ্রুত গতিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের যে কোন দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হবে। এ জন্য আগ্রহের কমতি নেই এলাকাবাসির মনে। ভাগ্যের দ্বার  খোলার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন তারা।

স্থানীয় শ্রমিক  ও বেকার যুবকরা জানান, আমাদের এই স্বপ্নের বন্দর চালু হলে জীবন-জীবিকার তাগিদে রাজধানী কিংবা অন্য শহরে যেতে হবে না। এখানেই কর্মসংস্থান হবে তাদের। এ জন্য হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে তাদের  চোখে মুখে।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার জানান, সরকার দক্ষিনাঞ্চলকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়ার  যে ঘোষনা দিয়েছেন তা এই বন্দরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে। এখানে গড়ে উঠবে নানা লাভ জনক শিল্প প্রতিষ্ঠান। দুর হবে বেকারত্ব। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। আমুল পরিবর্তন ঘটবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। তিনি বলেন ইতিমধ্যে আমরা দেশের একমাত্র উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র পেয়েছি, নেভাল বেইজ,পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৩টি বিশাল সেতু পেয়েছি। এ অঞ্চলের মানুষ আর অবহেলিত থাকছেনা। এ জন্য পটুয়াখালী বাসি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ বলেও জানান তিনি ।

প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সম্প্রতি পায়রা সমুদ্র বন্দর পরিদর্শনে এসে বলেছেন,এশিয়া মহাদেশের মধ্যে একটি লাভজনক বন্দর হবে এটি। বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য আমদানি শুল্কসহ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক-কর ছাড়  দেয়ার বিষয়টি এখন অর্থমন্ত্রনালয়ে যাচাই বাচাই চলছে।

আর নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান বলেছেন বড় জাহাজ ভেড়াতে যেখানে ৯ মিটার গভীরতা দরকার সেখানে এই বন্দরের গভীরতা রয়েছে ১৪ মিটার। অন্য বন্দরের চেয়ে ঢাকার সাথে দুরত্ব অনেক কম। মন্ত্রী জানান,বন্দরকে ঘিরে এখানে ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। স্থাপন করা হবে দেশীয় পোশাক শিল্প। যা জাহাজের মাধ্যমে রপ্তানী করা হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।  আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দরটি  সম্পূর্নরুপে চালু করা হবে বলেও জানান নৌ-মন্ত্রী।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি বিপুল সম্ভাবনাময় এই সমুদ্র বন্দরটি দ্রুত চালু হবে। এমটাই প্রত্যাশা পটুয়াখালীবাসীর।