স্কুল ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ১০ হাজার টাকা

1

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার দক্ষিন সওদাগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর ইজ্জতের মুল্য দিয়েছে ১০ হাজার টাকা।

ওই ছাত্রীর মা জানান, তিনি গত (৩ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার স্বামীসহ ব্যক্তিগত কাজের জন্য পাশেই এক বাড়ীতে যান। এ সুযোগে ৪ সন্তানের জনক প্রতিবেশী লম্পট জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামের এক বখাটে ঘরে ঢুকে স্কুল ছাত্রীকে একা দেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে  ধর্ষন  করে। এ সময় ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও তার মা বাড়ি এসে দরজা বন্ধ দেখে তারা দরজা ভেঙ্গে  ভিতরে প্রবেশ করে লম্পট জাহাঙ্গীরকে দেখতে পান। তাকে দেখা মাত্র সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে মেয়েটি কান্না জড়িত কন্ঠে তাকে ধর্ষনের  কথা জানায়। ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় আনোয়ার ফরাজি, মনির হাওলাদার, ও মুনসুর হাওলাদার তৎপরতা চালায়। মুনসুর হাওলাদার জানান, ‘মেয়েটির বাবা গরীব হওয়ায় আমরা কিছু টাকা পয়সা নিয়ে মিল মিশ করে দিতে চেয়েছি’।  ধর্ষনের পর থেকেই লম্পট জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছে। পলাতক থাকা অবস্থায় লোক মারফত রবিবার বিকেলে মেয়েটির বাবার কাছে চিকিৎসা করানোর কথা বলে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয় লম্পট জাহাঙ্গীর।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর মিঞা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতাসহ তারা বাবা মা আমার কাছে এসেছিল। তাদের মামলা করার জন্য থানায় যেতে বলি। কিন্তু কতিপয় লোক তাদের থানায় যেতে না দিয়ে মিমাংসার জন্য বাড়ি নিয়ে যায়।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, ধর্ষনের খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তাদের কাছে মেয়েটির বাবা তার মেয়ে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে। তাকে মামলার জন্য থানায় আসতে বললেও  সে থানায় আসেনি।  লিখিত কোন অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারিনি।