স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সাথে সনাকের অধি পরামর্শ সভা

5

স্থানীয় উন্নয়ন ঃ চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জন-অংশগ্রহণ। এ উপলব্ধিকে সামনে রেখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) পটুয়াখালী’র উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসন এর সহযোগিতায় বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মানোন্নয়ন ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অংশগ্রহণে অধিপরামর্শ সভা আয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার, মোঃ হেমায়েত উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মামুনুর রশিদ, অতিরক্তি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নূরুল হাফিজ, উপজেলা, নির্বাহী অফিসার, পটুয়াখালী সদর লতিফা জান্নাতী।

টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার  মোঃ হুমায়ুন কবীর এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রারাম্ভিক বক্তব্য রাখেন সনাক সভাপতি পীযূষ কান্তি হরি। অত:পর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সমস্যা, বিদ্যমান আইনের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর করার উপায় এবং ৯ মে ২০১৭ তারিখ উপজেলা পরিষদ মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত নির্বাচিত নারী জন প্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মশালায় প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভিজিডি মনিটরিং এর পর্যবেক্ষণ নিয়ে মাল্টি মিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের বরিশাল ক্লাস্টারের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ ফিরোজ উদ্দীন।  এরপর উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যানগণ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং ইউপি’র সেবার মানোন্নয়নে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও জন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে আরো বেশী স্বচ্ছ, জবাবদিহি ও শক্তিশালী করা জরুরী। ইউনিয়ন পরিষদকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে হবে। তিনি সনাকের স্থানীয় সরকার খাতের পাশাপাশি অন্যান্য খাত নিয়ে যে কাজ করেন তার প্রশংসা করেন। একই সাথে তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে আরো বেশী সচেতন করার মাধ্যমে তাদের কীভাবে সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। যেহেতু আপনাদের সাথে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড়, তাই তাদের সর্বোচ্চ সেবাদানের মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ঠি অর্জন করা আপনাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জও বটে। মানুষ হিসেবে আমাদের বিবেক হলো সবচেয়ে বড় আদালত। তাই বিবেকের কাছে প্রতিটি মানুষের স্বচ্ছ থাকা খুবই জরুরী। যেকোন দায়িত্ব সঠিক, সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমেই কাজের প্রকৃত আনন্দ। তাই সকলের নিকট প্রত্যাশা থাকবে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে  বক্তব্য রাখেন কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ, জৈনকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোঃ ফিরোজ আলম, লাউকাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম খোকন, বড় বিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মুশফিকুর রহমান প্রমূখ। সবশেষে সকলের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন ভিত্তিক একটি করে কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। যার অগ্রগতি সনাকের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ান্তর যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে তা বাস্তবায়নে সনাকের পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হবে। সভায় সনাক ও ইয়েস প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।