স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জলদস্যুদের আত্মসর্মপণ আজ ॥ স্বস্তিতে উপকূলের জেলেরা

2

 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল’র কাছে আত্মসমর্পণ করছেন বঙ্গোপসাগর দাবিয়ে বেড়ানো সশস্ত্র জলদস্যুরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের লক্ষ্যে আজ শনিবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জলদস্যু বাহিনীর এসব সদস্যরা আত্মসমর্পণ করবেন। বঙ্গোপসাগরের মুর্তিয়মান আতঙ্ক এসব জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ’র খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে উপকূলের জেলেদের মধ্যে এবং হাসি ফুটে উঠেছে দক্ষিণ উপকূলের জেলে পল্লী গুলোতে।

এক সময় পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ধানের বাজার মন্দা, সার-কীটনাশকসহ কৃষি আবাদ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বীজ সংকটসহ সময়ের পরিবর্তের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পেতে থাকে কৃষি আবাদ। এসব কৃষক ও চাষিরা কালের ¯্রােতে বদলে ফেলেন তাদের পেশা। কৃষি আবাদের পরিবর্তে শুরু করেন মৎস্য ব্যবসা। কিন্তু দেখানেও দেখা দেয় আরেক বিরাম্বনা। গভীর বঙ্গোপসাগরে শুরু হয় জলদস্যুদের তান্ডব। প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হতে থাকেন জলদস্যুরা। লুটপাট, জেলেদের মারধর, অপহরণ, ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় উপকূলের জেলেদের। পুরো বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গড়ে উঠে রাজু বাহিনী, সাগর বাহিনী, বিল্লাহ বাহিনী, নোয়া বাহিনীসহ বিভিন্ন নামে অন্তত: অর্ধশত ‘জলদস্যু বাহিনী’। এসব জলদস্যু বাহিনীর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জেলেরা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ি, গত ৭ বছরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হাতে অন্তত: অর্ধশত জেলে নিহত এবং মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করা হয় সহ¯্রাধিক জেলেকে। অপহৃত জেলেদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ফিরে এসেছেন, আর যারা মুক্তিপণ দিতে পারেননি, তাদের ভাগ্যে কি জুটেছে তার হদিস আজও মেলেনি।

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের দমনের উদ্যোগ নেন বর্তমান সরকার। সে লক্ষ্যে র‌্যাব ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি বাহিনী মাঠে নামেন। শুরু হয় র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের দফায় দফায় অভিযান। ধরা পড়ে অনেক জলদস্যু। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় বেশ কয়েকজন ‘জলদস্যু বাহিনী’ প্রধান। গ্রেফতার হন বহু জলদস্যু।  র‌্যাবের অভিযানে টিকতে না পেরে এর পর থেকে আত্ম-সমর্পন করতে বাধ্য হয় এসব জলদস্যুরা। এর আগে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি কুয়াকাটায় স্বরাষ্ট্্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল’র কাছে আত্মসমর্পণ করছেন জলদস্যু নোয়া বাহিনীর প্রধান মো. বাকি বিল্লাহ ওরফে নোয়া মিয়াসহ ১২ জলদস্যু। চার মাস পর আবার আজ স্বরাষ্ট্্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল’র কাছে আত্মসমর্পণ করছেন বেশ  কয়েকজন জলদস্যু। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা করছেন পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।

গত ৭ জানুয়ারি আত্মসমার্পনকারী জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা হচ্ছে, নোয়া বাহিনীর প্রধান মো. বাকি বিল্লাহ ওরফে নোয়া মিয়া (৩৭), মো. মনিরুল শেখ (৩৮), মো. মানজুর মোল্লা ওরফে রাঙ্গা (৪২), মো. মুক্ত শেখ (৩৭), মো. তরিকুল শেখ (৬০), মো. আকবর শেখ (৪২), মো. কিবরিয়া মোড়ল (৪০), মো. জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে মেজ ভাই (৪৮), মো. আল আমিন সিকদার (৫০), মো. ইউনুচ শেখ ওরফে দুলাল ঠাকুর (৪০), মো. মিলাদুল মোল্লা ওরফে কালু ডাকাত (২৮), মো. মোশারফ হোসেন (৩৭), এদের বাড়ী বাগেরহাট জেলার মংলা ও রামপালের বিভিন্ন এলাকায়। আত্মসমার্পনকারী এসব জলদস্যুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মহিপুর মৎস্য বন্দর আড়ৎ ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনসার উদ্দিন বলেন, ‘জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ হওয়ায় জেলেদের ভিশন আনন্দ ও উৎফুল্লু দেখা গেছে। আমরা যারা আড়ৎদারি করি তাদের মধ্যে বেশ আনন্দ’র জোয়ার বইছে। আমরা আত্মসমার্পনকারীদের আরও উৎসাহিত করছি।

র‌্যাব-৮ পটুয়াখালী ক্যাম্পের কমান্ডার মুহাম্মদ ছুরত আলম জানান, এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।