স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আলীপুর স্লইজ বাজার এলাকায় পাঁকা বেরিবাঁধ ভেংগে যাচ্ছে

14

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের স্লুইস বাজার এলাকার  বেড়িবাঁধ  অস্বাভাবিক জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে বাঁধের উপর নির্মান করা ইউনিয়ন পাকা সংযোগ সড়কটি। এখন বাঁধের  ভেঙ্গে যাওয়া অংশ চরম ঝুঁকির্পর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে সংযোগ সড়ক ভেসে গেলে  ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। পানিতে প্লাবিত হবে ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামসহ পাশ্ববর্তী উপজেলার গ্রামও। জোয়ারের পানি প্লাবিত হয়ে আমন আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁধ ভেঙ্গে  বাঁধের উপর পাকা সড়কটি নদীতে ভেসে গিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  এই ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের উত্তর দিকে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড । বাঁধ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হলে ৪ নং ওয়ার্ডের মানুষ  দক্ষিনে ১ নং ২ নং ও তনং ওয়ার্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে। তাই এলাকার লোকজন খুব সাবধনতার সঙ্গে বাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করছেন। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অমাবশ্যার  প্রভাবে গত তিন দিন ধরে জোযারের সময় চাঁদপুরা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি ভেঙে যাচ্ছে।  ভেসে  যাচ্ছে বাঁধের উপর নির্মান করা পাকা সড়ক।

স্থানীয়রা জানায়, রোয়ানুর আঘতে জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে ইউনিয়নের স্লুইস বাঁজার এলাকার  বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। পরবর্তীতে অমাবশ্যা-পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের জলোচ্ছ্বাসে বাঁধটি ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

চাঁদপুরা গ্রামের  জব্বার আকন জানান, এখন আমনের আবাদ শুরু হয়েছে। বাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হলে রোপনকৃত চারা সম্পূর্ণ ভেসে যাবে। আবার সরে গেলে চারা রোপন শুরু করতে হবে। তাই বাঁধ নিয়ে তারা আতংকে রয়েছেন।

গ্রামের  মোসলেম ফকির বলেন, চাষাবাদে ক্ষতি তো আছেই, এর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে এই ৪ নং ওযার্ডেরে চাঁনপুরা গ্রামের মানুষ।

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাদশা ফয়সাল বলেন, বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে ইউনিয়নের পশ্চিম আলীপুরা, চাঁদপুরা, মধুপুরা, মৌবাড়ীয়ী, রুহিতপুরীয়া এই পাঁচগ্রাম সহ পাশ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়য়িা ও কল্যানকলস ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা পানিতে প্লাবিত হবে। পাণি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত বাঁধ মেরামত  করা না হলে ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে, এলাকার মানুষের দুর্ভোগসহ কৃষিতে এর প্রভার পরবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন, এখন আমন রোপন শুরু হয়েছে। আগামি ১৫ দিনের মধ্যে রোপন শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু বাঁধ ভেঙে গেলে পানিতে রোপনকৃত চারা নষ্ট হবে, আবার নতুন করে চারা রোপন করতে হবে। এতে বরি ফসল চাষাবাদ পিছিয়ে যাবে। বাঁধ ভেঙে গেলে  কমপক্ষে ৩০০ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ফসলী  ক্ষেত।

পটুয়াখালী পানি উন্নয় বোর্ড এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো, শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করেছেন তারা। ভেঙে যাওয়া বাঁধের পাশ দিয়ে বিকল্প বাঁধ নির্মানের প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে এবং আগামি শুকনো মৌসুমে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাঁধের উপর নির্মিত পাকা সড়ক ভেসে যাওয়া প্রসঙ্গে পটুয়াখালী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ্ মো, হানিফ বলেন, বাঁধ যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ডের। বাঁধ নির্মান হলে ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি আবার নতুন করে নির্মান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।