স্যার বিয়াটা ভাইংগা দেন। মুই পড়া লেখা করমু হ্যাগো কথা শুইননেন না

7

 

কে এম  সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার ডালাচারা  গ্রামের বাসিন্দা সোনমুদ্দিন  এবং সালেহা   বেগমের ৫  সন্তানের মধ্যে ছোট মেয়ে কাকলী । কাকলীর  স্বপ্ন ছিল সে লেখাপড়া করে একজন মানুষের মত মানুষ হবে, নিজে হবে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। মাত্র  ১৪ বছর বয়সেই বিয়ের পীড়িতে বসতে হলো কাকলীকে। কাকলী বলছিল-আমি গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে  ১০ম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছি । এর মধ্যে আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেল। আমার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে সরকারী চাকুরী করবো ।  মানুষের সেবা করব। কিন্তু এই সমাজ ও আমার পরিবারের কারনে আজ আমাকে বাল্য বিবাহের শিকার হতে হল।  ১৪ বছর বয়সেই আমাকে যেতে হবে স্বামীর  সংসারে।

ঘটনাটি ঘটেছে  উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের দফাদারের পুত্র আলম দফাদারের সাথে বিয়ে হয়েছে কাকলীর বুধবার রাতে (১৪ ডিসেম্বর)কিন্তু বুধবার রাতে বিয়ে হলেও কাকলীর পরিবার  বিষয়টি গোপন রাখে । বাড়ীর আশপাশের লোকজন কাকলীর পরিবার কে বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে কাকলির পরিবারের লোকজন বলে না ছোট মাইয়া বিয়ে দিমু না । কলাগাছিয়ার কাদের দফাদারের পোলার লইগ্যা কাকলীরে  দেখতে আইছেলো । মোরা কইছি মোগো মাইয়া ছোট বিয়া দিমুনা। এই বলে গ্রামের লোকজনদের বুঝিযেছেন। বিয়ের ব্যাপার টি গোপন রাখেন কাকলীর পরিবার।

শুক্রবার ১৬ ডিসেম্বর  কাকলীর জামাইর শশুড় বাড়ী আসার কথাছিল । গ্রামের লোকজন জানতে পারে শুক্রবার  দুপুরে কাকলীর বিয়ে। এ খবর গ্রামের লোকজন আমতলী উপজেলা নির্বার্হী অফিসার কে জানায় ,তার নির্দেশে শুক্রবার দুপুর ১২.৩০ কাকলীর গ্রামের বাড়ী ডালাচারা গ্রামে গিয়ে হাজির হন  আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. নাজমুল আলম । বাড়ীতে গিয়ে কাকলীর পিতাকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি বাড়ীতে পাওয়া যায় কাকলীর মা সালহা  বেগম আর নানী হাজরো বেগম (৯০) কে তাদের  কে কাকলীর বিয়ের কথা জিজ্ঞসা করলে তারা কোনক্রমেই বিষয়টি স্বীকার করেননি।

কিছুক্ষন পর কাকলী বাড়ী এসে সহকারী কমিশনারের সামনে অকপটে বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন,আমাগো বাড়ীর লোকজন এবং প্রতিবেশিরা  মোশারেফ হুজুরেরে আনিয়া কলাগাছিয়ার  কাদের  দফাদারের পোলা আলমের সাথে আমার বিয়ে দিয়েছে।স্যার বিয়াটা ভাইংগা দেন। মুই পড়া লেখা করমু । হ্যাগো কথা শুইননেন না ।  কাকলীর  কথা শুনে সহকারী কশিনার ভূমি কাকলীর পরিবারকে ১৮ ডিসেম্বর  সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কাকলী ও তার পিতাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শাহাদাৎ হোসেন  সেলিম বলেন কাকলী মেধাবী ছাত্রী ওর বিয়ে দিয়েছে ওর পরিবার আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছুই জানিনা।

বাল্য বিয়ে সম্পর্কে উপস্থিত লোকজনদের  সহকারী কমিশনার বূমি বলেন নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে এবং বাল্য বিবাহকে নিরুৎসাহিত করতে সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আছে মেয়েদের বৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে বই বিতরণ, অধিক নারী শিক্ষিকা নিয়োগ, নারীদের সমান অধিকার ইত্যাদি। সরকারের পাশাপাশি সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ নামের দুষ্টক্ষত অপসারনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, সরকারের একক প্রচেষ্টায় এ প্রথা দূর করা সম্ভব নয়। তা মুক্ত করতে হলে আমাদের সামাজিক প্রচেষ্টার দরকার।  আমরা সবাই যদি সচেতন হয়ে যেখানে বাল্য বিবাহ সেখানে এর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করি তাহলে অচিরেই তা বন্ধ হবে।