১৫ বছর ধরে নিষ্প্রান বাউফল পাবলিক লাইব্রেরী চালুর দাবিতে স্বারকলিপি প্রদান

27

 

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল : ১৫ বছর ধরে নিষ্প্রান  বাউফল পাবলিক লাইব্রেরিটি চালুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করেছে পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কারপূর্বক চালু করণ দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটি । গতকাল সোমবার সকালে লাইব্রেরিটি সংস্কারপূর্বক চালু করার দাবিতে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার কার্যালয়ে কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ ও সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ আরিফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার একঝাঁক তরুনদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পৌর সদরেরর পাবলিকমাঠ সংলগ্ন পাবলিক লাইব্রেরিটি চালুর দাবি জানান।

সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের তদারকি ও উদাসীনতায় প্রায় ১৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে উপজেলার একমাত্র পাঠাগারটি। সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। পলেস্তারা খসে পড়ছে দেয়ালের। ভেতরে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। পাঠ্যবই, গল্প, উপন্যাসসহ প্রায় দেড়-দুই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই ইঁদুর ও তেলাপোকায় নষ্ট করেছে। ভবনের বারান্দা দখলে নিয়ে ব্যাবসায়ীরা তৈরী করছেন লেপ-তোষক ও ফার্নিচার। অন্ধকার নামলেই ভবনের পাশে সুনসান নিরবতায় মল-মুত্রত্যাগের জায়গা হয়ে দাঁড়ায় পথিক জনের। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পরে পাবলিকমাঠ লাগোয়া বাউফল পাবলিক লাইব্রেরিটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, পত্রিকা পাঠকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে এলাকার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়। নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ লাইব্রেরি পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা না থাকায় ও পরিচালনা পরিষদের অবহেলায় বন্ধ হয়ে যায় লাইব্রেরিটি। এরপর বিভিন্ন সময়ে এটি চালুর দাবি উঠলেও তা কার্যকর হয়নি। কিছুদিন আগে থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে পুনরায় লাইব্রেরিটি চালুর দাবি ওঠে এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তরুনরা মিলে ৩১ অক্টোবর শনিবার ‘পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কারপূর্বক চালু করণ দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে এগার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

বাউফল ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী লাভলী আক্তার জানান, সকাল-বিকাল শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ বয়োবৃদ্ধরা এখানে পড়াশুনা করতে আসতেন। লাইব্রেরীটি বন্ধ থাকায় সবাই পত্রপত্রিকা ও বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পৌর সদরের ইঞ্জিনিয়র একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার মহিলা ডিগ্রী কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মু. ওয়াহিদুজ্জামান সুপন বলেন, ‘পাবলিক লাইব্রেরীটি একসময় ছাত্র-শিক্ষক, বয়োবৃদ্ধসহ নানা পেশার মানুষের প্রতিদিনের মিলনমেলা ছিল। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই পেপার-পত্রিকা ও বইপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কারপূর্বক চালু করণ দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘নিষ্প্রান এই লাইব্রেরিটি চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনে তরুনরা ব্যাতিক্রমি সব কর্মসূচি গ্রহন করবে। মাদকের ছোবল থেকে এ সময়ে তরুনদের বাঁচাতে লাইব্রেরিটি চালু করা তরুনদেরই প্রাণের দাবি।’

লাইব্রেরীর পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক একেএম হুমায়ুন কবির জানান, কমিটির সদস্যদের সহোযোগিতা না থাকায় ২০০০ সাল থেকে লাইব্রেরীটি বন্ধ রয়েছে। উপজেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধিকবার উদ্দ্যেগ নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এটি চালু করা খুব জরুরী। লাইব্রেরিটি চালু হলে মাদকাসক্ত না হয়ে তরুনরা এখানে জ্ঞান চর্চায় ভাল সময় কাটাতে পারবে। তরুনরা ও লাইব্রেরিটি চালুর দাবি তুলেছে।’

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ অব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘স্বারকলিপি পেয়ে আমি লাইব্রেরিটি চালুর ব্যাপারে আস্বস্ত করেছি।’