২৭৮ শিশু শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধের পথে

0

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্কুলে আসা-যাওয়া জোয়ার-ভাঁটা নির্ভর হয়ে পড়ছে । ফলে ওই সকল শিশুদের অভিভাবকরা তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। স্কুলে  যেতে হলে শিশুদের হাঁটু কিংবা কোমর সমান পানি পেরিয়ে জামা-কাপড়, বই-খাতা ভিজিয়ে স্কুলে  যেতে হচ্ছে। গত সোমবার (৬ই জুন) নিজামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা পানিতে  নেমে সংযোগসড়ক নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন  বেড়িবাঁধটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর এটি মেরামত করা হয়নি। ঘূর্নিঝড়  রোয়ানু’র আঘাতে  বেড়িবাঁধটি আরও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। অমাবষ্যার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারেরর পানি ওই ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে প্রবেশ করে চারটি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। নিজামপুর, সুধিরপুর, পুরান মহিপুর ও ইউসুফপুর গ্রামের মানুষের এখন দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। ক’দিনের  জোয়ারের তান্ডবে সমগ্র এলাকার অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ ভেঙ্গে পড়েছে। ওই সড়ক গুলো দিয়ে এখন চলাচলের সুযোগ  নেই। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭৮ শিশু।

বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জানায়,‘ নদীতে  জোয়ার এলে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর ভাটার সময় জামা-কাপড়, বই-খাতা ভিজিয়ে স্কুলে  যেতে কিংবা আসতে হয়। এই রাস্তা ঠিক না করলে অনেকে আর স্কুলে না আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক   মো: শামসুল হক জানান, গত কয়েক সপ্তাহে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে নেমে  গেছে। সামনে আরও  বেশি বৃষ্টি হবে। এখনই স্কুল গামী রাস্তা ঠিক করা না হলে শিক্ষার্থীরা স্কুলেই আসতে পারবে না।এতে শিক্ষার্থী সংকটে স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।