বরিশাল প্রতিনিধিঃ
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর আওতাধীন বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার ৮ নং গুয়াবাড়িয়া ক্লাস্টারের দক্ষিণ নরসিংহপুর গ্রাম সমিতিতে সোলার সড়ক বাতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রাম সমিতির সদস্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তার পাশে সোলার সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য দপ্তরি বাড়িকে নির্ধারিত স্থান হিসেবে ২৯ মে ২০২৩ তারিখে চূড়ান্ত করা হয়। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপ্রাইজাল টিমের সদস্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (নির্মাণ ও পরিবেশ) আতিয়ার রহমান পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই শেষে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে স্থানটি অনুমোদন করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত স্থান উপেক্ষা করে এসডিএফ-এর ৮ নং গুয়াবাড়িয়া ক্লাস্টারের ক্লাস্টার অফিসার বিজন বিহারি বালা, ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর জাহাঙ্গীর হোসেন ও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার নোবেল গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে হঠাৎ করে সোলার লাইটের স্থান পরিবর্তন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাম সমিতির সভাপতির যোগসাজশে নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে সভাপতির বাড়ির পুকুরপাড়ে সোলার সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়।
এ বিষয়ে গ্রাম সমিতির সদস্যরা আপত্তি জানালে ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমরা যেখানে বসাবো, সেখানেই বসবে।” এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বহিরাগত কিছু লোক এনে গ্রাম সমিতির নারী সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী এক নারী সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “নির্ধারিত স্থানে সোলার লাইট বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর জাহাঙ্গীর হোসেন স্যারের ইন্ধনে আমাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে।”
গ্রাম সমিতির একাধিক সদস্য জানান, বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার অফিসার ও ফ্যাসিলিটেটর গ্রাম সমিতিতে উপস্থিত হননি। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাউরিয়া বাজারে স্থানীয় জনগণ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর জাহাঙ্গীর হোসেন মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “কোনো মারামারি হয়নি। সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই লাইট বসানো হয়েছে। আমি ইঞ্জিনিয়ার নই, আমাদের
আলাদা ইঞ্জিনিয়ার আছেন।”
ক্লাস্টার অফিসার বিজন বিহারি বালা বলেন, “মহিলা সদস্যের গায়ে হাত তোলা হয়নি। মারামারি হয়নি, তবে ঝগড়া হয়েছে।” তিনি স্বীকার করেন, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক যে স্থান নির্ধারণ করেছিলেন সেখানে লাইট বসানো হয়নি। তবে তার দাবি, “আমার স্টাফ সদ্য পরিষদ মিটিং ডাকার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। যদি মিটিং হতো, আমাকে জানানো হতো। বৃহস্পতিবার না শুক্রবার বসানো হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নই।” তিনি আরও বলেন, যেখানে বসানো হয়েছে সেটিও উপযুক্ত স্থান।
তিনি জানান, “বর্তমান স্থান থেকে লাইট খুলে অফিসে আনা হবে। পরে গ্রাম পরিষদের সভা ডেকে যে সিদ্ধান্ত হবে, দুই-তিন দিনের মধ্যে সেখানে পুনঃস্থাপন করা হবে।”
এ বিষয়ে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (নির্মাণ ও পরিবেশ) আতিয়ার রহমান বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী স্কেচ ম্যাপে যে স্থান নির্ধারিত থাকে, সেখানেই লাইট বসানোর কথা। গ্রাম পরিষদের অনুমতি ছাড়া অন্যত্র বসানোর সুযোগ নেই। ক্লাস্টার অফিস নিজ ইচ্ছায় অন্যত্র সোলার বাতি স্থাপন করতে পারে না, সকল সদস্যের অনুমতি প্রয়োজন।” তিনি জানান, বিষয়টি সদ্য তার নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গ্রাম সমিতির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
