Thursday, February 26, 2026
Thursday, February 26, 2026

‘নির্বাচনের পরই বদলে যাবে পাকিস্তানের সুর’: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চেতন শর্মার চাঞ্চল্যকর দাবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মহারণ কি তবে ভেস্তেই যাচ্ছে? নাকি পর্দার আড়ালে চলছে অন্য কোনো সমীকরণ? যখন পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছে, ঠিক তখনই এক ভিন্নধর্মী পূর্বাভাস দিলেন ভারতের সাবেক গতিদানব ও নির্বাচক চেতন শর্মা।

তার দাবি, পাকিস্তানের এ বয়কট কেবল একটি সাময়িক রাজনৈতিক চাল এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেই দেশটি তাদের অবস্থান থেকে ইউ টার্ন নেবে।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেতন শর্মা দাবি করেন, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। চেতন শর্মার মতে, পাকিস্তান বর্তমানে যে হার্ডলাইন অবস্থান নিয়েছে, তা মূলত দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি অংশ।

তিনি বলেন, পাকিস্তান যে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে, এটি পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু ক্রিকেটবিশ্ব জানে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়া বিশ্বকাপের জৌলুস এবং বাণিজ্যিক সাফল্য অসম্ভব। আমার বিশ্বাস, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

শর্মা ইঙ্গিত দেন যে, বাংলাদেশে নির্বাচনের পর যখন নতুন একটি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে, তখন পাকিস্তান তাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজে পাবে। চেতন শর্মা একটি চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের অসামরিক সরকার বয়কটের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের ক্রিকেট এবং রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব নতুন কিছু নয়। খেলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার দোহাই দিয়ে পাকিস্তান সেনাপ্রধান হয়তো শেষ মুহূর্তে দলকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সবুজ সংকেত দিতে পারেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন চেতন শর্মা। পাকিস্তান সরকার বয়কটের ঘোষণা দিলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবি এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসিকে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি। পিসিবি হয়তো আইসিসির কাছ থেকে বিশাল অংকের জরিমানা বা সদস্যপদ স্থগিতের ভয়ে কিছুটা সময় নিচ্ছে। আইসিসি এখনো বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে অটল। তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের মতে, পাকিস্তান যদি এ ম্যাচ না খেলে, তবে টিকিট বিক্রি, পর্যটন এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চেতন শর্মার মতে, এ ধরনের আঞ্চলিক ও বাণিজ্যিক চাপ সামলানো পাকিস্তানের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে দল পাঠাতে চায়নি। আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তান বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়।

কিন্তু চেতন শর্মা মনে করেন, এ সংহতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর যখন বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরার পথ তৈরি হবে, তখন পাকিস্তান আবারও ক্রিকেটের বাণিজ্যিক স্রোতে ফিরে আসবে।

চেতন শর্মার এ দাবি যদি সত্যি হয়, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ দেখার জন্য অপেক্ষারত কোটি কোটি ভক্তের আশা পুনরায় জেগে উঠতে পারে। তবে সবকিছুই এখন ঝুলে আছে ১২ ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশের ভোটের ফলাফলের ওপর। ক্রিকেটের পিচে রাজনীতির এ গুটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা দেখতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।