Thursday, February 26, 2026
Thursday, February 26, 2026

পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা ও জমি দখলের অভিযোগ


পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব-এ সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী গোপাল মাঝি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মৌজা মরিচবুনিয়া এলাকায় তার নামে প্রায় ৪০ শতাংশ রেকর্ডীয় ও দখলীয় জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর এক নেতা ও বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষক দল-এর সদস্য জাকির ভূইয়া, সুমন প্যাদা, নাসির আকন, হারুন মাতবর, জাফর ভূইয়া ও নিজাম প্যাদাসহ কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তার সন্তানদের স্কুলে যাওয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং পরিবারসহ ভারতে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাকে ঘেরাও করে মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে তিনি ও তার ভাই গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জাকির ভূইয়া, সুমন প্যাদা ও নাসির আকনসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ৭–৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও দায়ী করা হয়েছে।

গোপাল মাঝি বলেন, “সংখ্যালঘু হওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছি। পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জাকির ভূইয়া বলেন, তার জামাই সুমন প্রায় পাঁচ বছর আগে সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয় করেছেন এবং সেখানে বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কাউকে ভারতে চলে যেতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “মারামারির ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত। এ ঘটনায় আগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকির বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”