স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুন্দরবনের জলদস্যু ডাকাত প্রধান আলিফ ও কবিরাজসহ ২৫জনের আত্মসর্মপণ

4

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল’র কাছে বঙ্গোপসাগর দাবিয়ে বেড়ানো সশস্ত্র জলদস্যু ডাকাত আীরফ বাহিনীর প্রধান মোঃ আরিফ মোল্লা ওরফে দয়ালসহ ১৯জন এবং এবং কবিরাজ বাহিনীর প্রধান মোঃ ইউনুস আলী শেখ ওরফে কবিরাজ ওরফে লাদেনসহ ৬জন মোট  ২৫জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করছেন । পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের লক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জলদস্যু বাহিনীর এসব সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেন। বঙ্গোপসাগরের মুর্তিয়মান আতঙ্ক এসব জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ’র খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে উপকূলের জেলেদের মধ্যে এবং হাসি ফুটে উঠেছে দক্ষিণ উপকূলের জেলে পল্লী গুলোতে।

শনিবার বেলা ১১টায় র‌্যাব -৮ বরিশাল এর ব্যবস্থাপনায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। র‌্যাব-৮ বরিশাল বিভাগের অধিনায়ক লে.কর্নেল আনোয়ার উজ জামান, পি,এস,সি,জি‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন র‌্যাব ফোর্সেস এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বিপিএম। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগের সহকারী ডিআইজি শেখ মোঃ আকরাম হোসেন,জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  খান মোশারফ হোসেন,পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান,সিজিবেইজ অগ্রযাত্রা পটুয়াখালী কোস্ট গার্ডের কমান্ডার  মোঃ বশির উদ্দিন আহম্দে,  পটুয়াখালী -০৪ আসনের সাংসদ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারবরগুনা ফিসিংবোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি আবু হেলা ইমরুল কাষেস,কুয়াকাটা ও মহিপুর মৎস্যব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা,জলদস্য ও ডাকাত আলিফ বাহিনীর প্রধান মোঃ আলিফ মোল্লা, ওরফে দয়াল, কবিরাজ বাহিনীর প্রধান মোঃ ইউনুস আলী খা ওরফে কবিরাজ এবং জলদুস্য কর্তৃক গুলিবিদ্ধ খুলনার শরনখোলার মোঃ আনোয়ার মাঝি। প্রধান অতিথি শেষে রাজু বাহিনীর ১৫ জন সদস্য প্রত্যেককে বিশ হাজার টাকা চেক প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে  কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মোঃ আফজাল হোসেন,পৌরমেয়র ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. তারিকুজ্জামান মনি, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শাহজালাল খান, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী শামসুর রহমান ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মুফতী সালাউদ্দীনসহ র‌্যাব, পুলিশ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক, সুধীজন, কুয়াকাট ও মহিপুর এলাকা থেকে আগত জেলেরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার আত্মসমার্পনকারী জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা হচ্ছে,আলিফ বাহিনীর প্রধান,মুন্সিগঞ্জের মোঃ আরিফ মোল্লা ওরফে দয়াল(৪২),রেজাউল ইসলাম শেখ(২৮),সফি(২০),আবদুল্লাহ (৪০),হযরত আলী(৩৮),শাহীন(২৯),জামির আলী(৪৬),আলামিন মোল্লা(৩৫),মোঃ তাইজেল(২৭),সিরাজুল(৪১),আলমগীর গাজী( ২৬),কামাল শেখ(৩৮),হোসেন আলী শেখ(২৮),সেলিম মোড়ল(৩৯),হযরত আলী গাইন(৩৯),পিয়ার আলী(৩৭),সাতক্ষীরার লিটন(৩২),খুলনার হাবিবুর রহমান(২৭),বাগেরহাটের এনামুল গাজী(৩৫),কবিরাজ বাহিনীর প্রধান মোঃ ইউনুস আলী শেখ ওরফে লাদেন(৩০),মোঃ নাজিম শেখ(৩৮),আফতাব ফকির(৩৩),আবু শেখ(৪৬),মোঃ সেলিম হাওলাদার(৩০),রাজু(৩৭) এদের বাড়ী বাগেরহাট জেলার মংলা ও রামপালের বিভিন্ন এলাকায়। আত্মসমার্পনকারী এসব জলদস্যুদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং পুনবাসন করা হবে বলে জানিয়েজেন প্রধান অতিথি।  হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মহিপুর মৎস্য বন্দর আড়ৎ ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনসার উদ্দিন বলেন, ‘জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ হওয়ায় জেলেদের ভিশন আনন্দ ও উৎফুল্লু দেখা গেছে। আমরা যারা আড়ৎদারি করি তাদের মধ্যে বেশ আনন্দ’র জোয়ার বইছে। আমরা আত্মসমার্পনকারীদের আরও উৎসাহিত করছি।

পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ধানের বাজার মন্দা, সার-কীটনাশকসহ কৃষি আবাদ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বীজ সংকটসহ সময়ের পরিবর্তের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পেতে থাকে কৃষি আবাদ। এসব কৃষক ও চাষিরা কালের ¯্রােতে বদলে ফেলেন তাদের পেশা। কৃষি আবাদের পরিবর্তে শুরু করেন মৎস্য ব্যবসা। কিন্তু দেখানেও দেখা দেয় আরেক বিরাম্বনা। গভীর বঙ্গোপসাগরে শুরু হয় জলদস্যুদের তান্ডব। প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হতে থাকেন জলদস্যুরা। লুটপাট, জেলেদের মারধর, অপহরণ, ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় উপকূলের জেলেদের। পুরো বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গড়ে উঠে রাজু বাহিনী, সাগর বাহিনী, বিল্লাহ বাহিনী, নোয়া বাহিনীসহ বিভিন্ন নামে অন্তত: অর্ধশত ‘জলদস্যু বাহিনী’। এসব জলদস্যু বাহিনীর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জেলেরা। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ি, গত ৭ বছরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হাতে অন্তত: অর্ধশত জেলে নিহত এবং মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করা হয় সহ¯্রাধিক জেলেকে। অপহৃত জেলেদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ফিরে এসেছেন, আর যারা মুক্তিপণ দিতে পারেননি, তাদের ভাগ্যে কি জুটেছে তার হদিস আজও মেলেনি।