4

 

কে এম সোহেল,আমতলী প্রতিনিধিঃ আমতলীর চলাভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য দেওয়া শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কমৃসূচীর আওতায় দেয়া বিস্কুট কমিটির সদস্যসহ অভিবাবকদের খেতে না দেয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষকসহ ৪ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা জানান, উপজেলার চলাভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিধ্যালয়ে বেসরকারী সংস্থা কোডেক এর রিড প্রকল্পের  আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের হল রুমে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য, অভিভাবক , শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো: আনছার তালুকদার উপস্থিত সকলকে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ বিস্কুট খেতে দিতে বলেন। এতে প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগমসহ অন্য ৩ শিক্ষক শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত বিস্কুট খেতে দিতে রাজি না হওয়ায় সভাপতি মো: আনছার তালুকদার প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল শুরু করেন। শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করলে সভাপতি চেয়ার হাতে নিয়ে তাদের মারতে উদ্ধত হন। বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ উপজেলা  শিক্ষা কমিটিকে জানালে কমিটির চলমান সভায় ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দেন এবং শিক্ষকদের সাথে অসাধাচারন কারী সভাপতি আনছার তালুকদারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমতলী থানায় অভিযোগ প্রেরন করেন। প্রধান শিক্ষক মোসাম্মাৎ মোর্শেদা বেগম জানান, সভাপতি আনছার তালুকদার বিদ্যালয়ের শিশুদের বিস্কুট অভিভাবক, কমিটির সদস্যসহ উপস্থিত সকলকে দিতে বলে। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সকল শিক্ষককে চেয়ার নিয়ে মারতে উদ্ধত হন।

অভিযুক্ত আনছার তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। (০১৭২১-০৪৭৩৩৭)

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: জাহিদ উদ্দিন জানান, চলাভাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো: আনছার তালুকদার কর্তৃক শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার  লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষা কমিটিকে অবহিত করলে তারা ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দেন এবং থানায় মামলা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্লাহ জানান, শিক্ষদের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত আনছার তালুকদারকে গ্রেপ্তারের জোর তৎপরতা চলছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: নাজমুল আলম জানান, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমতলী থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা কমিটির সভাপতি জিএম দেলওয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি উপাস্থাপন হলে ওই বিদ্যালয়ে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং আমতলী থানাকে মামলা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হয়।